
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের পাঁচলিয়া এলাকায় একাধিক মামলার আসামি সামিদুল জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় মাদক ও চোরাই মালামালের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে এসে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ অন্তত ১২ মামলার আসামি সামিদুল দীর্ঘদিন ধরে পাঁচলিয়া এলাকার মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার সঙ্গে আল আমিন, ল্যাংড়া স্বপন, রহিমসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসাধু পরিবহন চালক ও হেলপারদের কাছ থেকে রড, সিমেন্ট, গম, ভুট্টা, চাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য কম দামে কিনে তা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে মাদকের বিনিময়েও এসব পণ্য লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে বা কারবারিদের সঙ্গে দরদামে মতবিরোধ হলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামিদুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চোরাই কারবার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলেও প্রথমদিকে অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পরবর্তীতে র্যাব-১২ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সামিদুলকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে তার ব্যবহৃত একটি অফিস থেকে প্রায় ৫১৫ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার এবং একজনকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে সামিদুল আবারও প্রকাশ্যে মাদক ও চোরাই কারবার পরিচালনা করছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ঘটনাস্থলের অদূরেই হাইওয়ে থানা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।