রেজাউল করিম খান, সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাটিয়া গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৪ ধারা অমান্য করে ৪০ বছরের পুরোনো পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল এবং পাকা ইমারত নির্মাণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র দলিল ও নামজারি সূত্রে মালিকানাধীন ওই জমিতে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার নথি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানার জে.এল নং- ১৬৯ এর মাটিয়া মৌজার আর.এস ৪৭১ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত আর.এস ৪৯০ নং দাগের ২৪ শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোকাদ্দমা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয় (এম.আর মামলা নং- ১৬১/২০২৬)। মামলার দরখাস্তকারী মাটিয়া গ্রামের মৃত মোঃ আফজাল হোসেনের পুত্র মোঃ জহুরুল ইসলাম। (৫০) অন্যদিকে বিবাদী পক্ষ হলেন একই এলাকার মোঃ লিটন শেখ (৫৫) ও বাঁধন (২২) সহ আরও কয়েকজন।
মামলার বিবরণী ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নালিশী এই সম্পত্তিতে বাদীর পিতা ও পরবর্তীতে ওয়ারিশগণ বিগত ৪০ বছর যাবত সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তীতে গত ১২/১২/২০১৮ ইং তারিখে সম্পাদিত ও রেজিস্ট্রিকৃত ৭৩৫ নং ‘হেবানামা দলিল’ (দানপত্র) মূলে মোঃ জহুরুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, ও জহুরা খাতুন এই জমির মালিকানা প্রাপ্ত হন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালত থেকে উক্ত ২৪ শতক ভূমির ডিজিটাল খাজনা-খারিজ ও নামজারি (কেস নং- ১৩৫৪/IX-I/১৯-২০) সম্পন্ন করে তারা নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিনের এই শান্তিময় ও রেকর্ডীয় সম্পত্তিতে হঠাৎ করেই বিবাদীগণ লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে বেআইনিভাবে জবরদখল করে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করে। এই বিরোধের জেরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৪৪ ধারা মোতাবেক অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। একই সাথে নালিশী সম্পত্তির মাটি কেটে আকার, আকৃতি ও অবয়ব পরিবর্তন না করার জন্য বিবাদী পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী পক্ষ জানান, আদালত কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি করার পরও বিবাদী পক্ষ আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে দিনরাত নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। বাধা দিতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে বিবাদী পক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।






