এইতো আমার তখন ৪/৪.৫, কোনো এক রাতে কালো, ছিপছিপে এক মেয়ের জন্ম হলো। সে নাকি আমার বোন।
কী অদ্ভুত কাণ্ড,পরের দিন থেকেই আমার দুধ খাওয়া বন্ধ! আমি তো ভীষণ অবাক। আজ থেকে নাকি দুধ সে খাবে। ভাগাভাগিটা মূলত সেদিন থেকেই শুরু। তারপর ধীরে ধীরে..
আমরা তখন গাজীপুরেই থাকতাম। কেউ একজন বলেছিল, হিজড়ারা নাকি ছোট বাচ্চা পেলে নিয়ে যায়। আমি কতবার,কতশতবার পথ চেয়ে থাকতাম আর দেখতাম, আবার হিজড়া আসে কি না।এমনও অনেকবার হয়েছে, হিজড়া দেখে ভয় পেয়ে দৌড়ে বাসায় এসে দরজা লাগাতে না পেরে ড্রাম কিংবা অন্য কিছু দিয়ে দরজা ভিজিয়ে দিয়ে রেখেছি—পাছে আবার আমার বোনকে না নিয়ে যায়!
তারপর কতদিন গেল হিসাবই তো রাখা হলো না।
আমি হয়তো তখন ফোর বা ফাইভে পড়ি, আর আমার দুধে ভাগ বসানো বোনটা হয়তো কেজি কিংবা ওয়ানে,
সে প্রায়ই বায়না ধরত, “ভাইয়া, ওই কবিতাটা শোনাও না—ওই যে ছোকানু আর তার বোনের কবিতাটা তোমার বইয়ে যে আছে।”
কতবার,কত শতবার, কত হাজারবার যে পড়েছি কবিতাটি!
কত দুঃখ আমরা ভাগাভাগি করেছি, সুখেরকথা আর না-ই বলি। কারণ শৈশবের দিনগুলো এমনই—এখনকার হাজারো দিন দিয়েও তার একটি দিন বদলানো যাবে না।কতবার যে তাকে মেরেছি, আবার কতবার তাকে হাসানোর চেষ্টা করেছি, তার কোনো হিসাব ই নেই।
কয়েকবছর আগে ওর একবার প্রচণ্ড জ্বর হয়েছিল। এমন জ্বর যে মাথার চুল পড়ে যাচ্ছিল, ওজনও প্রায় দশ কেজি কমে গিয়েছিল। আমি ভীষণ ঘাবড়ে সারাক্ষণ আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম, আমার বোনের আবার কোনো কিছু না হয়ে যায়। তারপর অনেক দোয়া আর দীর্ঘ চিকিৎসা..
আমার জীবনের যত স্মৃতি, দুঃখ, কষ্ট, সফলতা, গল্প,আড্ডা, হাসি,কান্না,ভালোবাসা, মায়া আর আদিক্ষেতা ওর সাথে তা পৃথিবীর জীবনে আর সম্ভব না হয়তো।
আর কী ভীষণ কঠিন আল্লাহর নিয়ম, দুনিয়ার পরে নাকি ওর সাথে আমার আর দেখা হবে না। আজকে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল, ঠিকঠাক কথা বলতে পারতেছিলাম না। বারবার আটকে যাচ্ছিলাম, তাই মূল্যহীন খসড়া কাগজে আবোল-তাবোল কিছু একটা লিখলাম। আমার বোনের পরবর্তী জীবন সুখের হোক।






