
মোঃ মামুন সেখ,সিরাজগঞ্জ :
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা বিভাগে আবারও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ) নির্বাচিত হয়েছেন ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম। শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদান, দক্ষ নেতৃত্ব ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এর অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খান অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলামের শিক্ষা জীবনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এর আগেও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬ নীতিমালার আওতায় উপজেলা, জেলা ও রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৯ সালে জ্ঞান তাপস ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড, ২০২২ সালে বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়াও দৈনিক কলম সৈনিকের পক্ষ থেকে বর্ষসেরা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা লাভ করেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিট পলিটেকনিক ও মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট সিরাজগঞ্জের পরিচালক (প্রশাসন) এবং তাড়াশ কল্যাণ সমিতি সিরাজগঞ্জের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) আয়োজিত ১৩৬তম শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে সারাদেশে অংশগ্রহণকারী অধ্যক্ষদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর ২০০১ সালে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ’। শিক্ষার মান ও সাফল্যের ভিত্তিতে ২০০৪ সালের ১ মে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে অভিজ্ঞ শিক্ষক, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, নিজস্ব পরীক্ষা কেন্দ্র এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কলেজটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম সুনামধন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তাদের আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও নিরলস পরিশ্রমের কারণেই কলেজটি আজ একটি আদর্শ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”