
আখতার হোসেন হিরন :
সংসার জীবনে ঘর সামলানোর পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করে সেটিকেই পেশা হিসেবে নেওয়া এখন আর নতুন কিছু নয়। তবে যারা সময়ের আগে সাহস করে পথচলা শুরু করেন, তারাই অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে থাকেন। তেমনি সলঙ্গায় রূপচর্চা ও ফ্যাশন জগতে নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও আন্তরিক সেবার মাধ্যমে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন প্রিয়মূখী বিউটি পার্লারের কর্ণধার ও প্রশিক্ষক লাভলী পারভীন।
বিউটি পার্লারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন একটু সৌখিন ও পরিপাটি স্বভাবের। নিজের রূপচর্চা ও সৌন্দর্যের যত্ন নিতে মাঝে মধ্যেই শহরের বিভিন্ন বিউটি পার্লারে যেতেন। সেখানে কর্মীদের আচরণ, কাজের দক্ষতা ও পরিবেশ তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। আর সেই ভালো লাগা থেকেই জন্ম নেয় নিজের একটি বিউটি পার্লার গড়ে তোলার স্বপ্ন।
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০১৫ সালে তিনি ঢাকার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে বিউটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে সলঙ্গা বাজারে প্রতিষ্ঠা করেন “প্রিয়মূখী বিউটি পার্লার” নামে নিজের প্রতিষ্ঠান।
নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে লাভলী পারভীন বলেন, “আমি নিজে সাবলম্বী হতে চেয়েছি, পাশাপাশি অন্য মেয়েদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছি। সেই চিন্তা থেকেই বিউটি পার্লারের ব্যবসা শুরু করি। কারণ ফ্যাশন ও রূপচর্চা একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ যেমন সুন্দর পোশাক পরতে ভালোবাসে, তেমনি নিজেকে সুন্দর ও পরিপাটি রাখতেও আগ্রহী।
বর্তমানে তার পার্লারে সলঙ্গার স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারীরা নিয়মিত সেবা নিচ্ছেন। রূপচর্চার পাশাপাশি তিনি নতুনদের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন।
যেসব তরুণী লেখাপড়ার পাশাপাশি বিউটি ব্যবসায় আসতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে লাভলী পারভীন বলেন, “ব্যবসা মানেই চেষ্টা আর ধৈর্য। চাকরিতে মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন পাওয়া যায়, কিন্তু ব্যবসায় আগে প্রতিষ্ঠানের খরচ, কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য বিষয় সামলাতে হয়। এরপর লাভ আসে। তাই এখানে পরিশ্রম অনেক বেশি।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন প্রথম ব্যবসা শুরু করি, তখন চিন্তা ছিল বিনিয়োগের টাকা কীভাবে ফেরত আসবে। আর এখন চেষ্টা করি সেবার মান ধরে রাখতে এবং ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে।
বর্তমান সময়ে বিউটি পার্লার ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র বিউটি পার্লারের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সুখবর হলো, গ্রাহকের সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় সব বয়সী ও পেশার নারীরা পার্লারের সেবা গ্রহণ করেন, বিশেষ করে কর্মজীবী নারীরা বেশি আগ্রহী। তাই যেসব এলাকায় কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেশি, সেখানে নতুন উদ্যোক্তাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।”
স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শুধু একটি কোর্স করলেই বিউটি সেক্টরের সবকিছু শেখা সম্ভব নয়। এখানে ডিটেইল কাজ শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রূপচর্চার পাশাপাশি গ্রাহকসেবা, বিনিয়োগ, লাভ-লোকসানের হিসাব, গ্রাহক ধরে রাখা—সবকিছু সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “পার্লার ব্যবসার মূল শক্তি হচ্ছে সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও মানসম্মত সেবা। যে উদ্যোক্তা যত ভালোভাবে গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন, তিনি তত বেশি সফল হবেন। এছাড়া কোন এলাকায় ব্যবসা করবেন, সেই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা, চাহিদা ও রুচির দিক বিবেচনা করেও পার্লারের পরিবেশ ও সাজসজ্জা করতে হবে।”
সবশেষে লাভলী পারভীন জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সলঙ্গা হাজ্বী মহিউদ্দিন রেদয়ান সুপার মার্কেটের ডিমহাটা গলিতে অবস্থিত প্রিয়মূখী বিউটি পার্লারে সকল সেবার ওপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন—ঈদের খুশিতে সাজুক সবাই স্বল্প বাজেটে।”
বিশেষ অফারের মধ্যে রয়েছে— হাইড্রো ফেসিয়াল করলে চুল কাট ও ভ্রু প্লাক সম্পূর্ণ ফ্রি। এছাড়াও হেয়ার স্পা, বৌ সাজ, মেহেদী সাজসহ বিভিন্ন সেবায় থাকছে আকর্ষণীয় ঈদ ছাড়।