
সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
এই পৃথিবীতে সব শব্দই শক্তির পরিচয় বহন করে না। কিছু শব্দ শুধু শূন্যতার প্রতিধ্বনি মাত্র। আবার কিছু নীরবতা থাকে, যার গভীরতা শব্দের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। একটি বিশেষ এক টাকার কয়েন মাটিতে পড়লে টুং করে শব্দ হয়, কিন্তু একটি এক হাজার টাকার নোট মাটিতে পড়লেও কোনো শব্দ হয় না। অথচ মূল্য ও গুরুত্বের দিক থেকে নোটটির অবস্থান অনেক উঁচুতে। জীবন ও মানুষের চরিত্রও ঠিক তেমনই।
আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা সবসময় নিজেদের জাহির করতে ব্যস্ত থাকেন। কথা, আচরণ কিংবা বাহ্যিক প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা নিজেদের বড় প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো— প্রকৃত জ্ঞানী, গুণী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ কখনো অহংকারে নিজেকে তুলে ধরেন না। তারা নীরবে কাজ করেন, চুপচাপ মানুষের উপকার করেন এবং সময়ের হাতে নিজেদের মূল্যায়ন ছেড়ে দেন।
যাদের ভেতরে প্রকৃত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানবিকতা থাকে, তারা জানেন— উচ্চস্বরে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় না। কারণ সত্যিকারের মূল্যবান জিনিস কখনো শব্দ করে না। যেমন সোনার বিশুদ্ধতা প্রচার করতে হয় না, তেমনি একজন প্রকৃত মানুষের মহত্বও নিজেই একসময় প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে, যাদের ভেতরটা ফাঁপা, তারাই বেশি শব্দ করতে পছন্দ করে। তারা সমালোচনা করে, ছোট করে, অহংকার দেখায় এবং সবসময় আলোচনায় থাকতে চায়। কিন্তু সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে সেই মানুষ, যিনি নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যান। কারণ সময় কখনো ভুল বিচার করে না।
জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো— নিজেকে প্রমাণ করার জন্য চিৎকার করতে হয় না। কাজ, সততা, ব্যবহার ও মানবিকতাই একজন মানুষকে প্রকৃত সম্মান এনে দেয়। সমাজ হয়তো প্রথমে শব্দ শুনে আকৃষ্ট হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মূল্য খুঁজে নেয় নীরবতার মাঝেই।
তাই জীবনে কয়েনের মতো শুধু শব্দ করার মানুষ না হয়ে, হাজার টাকার নোটের মতো মূল্যবান হওয়ার চেষ্টা করুন। নীরবে মানুষের পাশে থাকুন, ভালো কাজ করে যান, কাউকে ছোট না করে নিজের গুণে বড় হোন। মনে রাখবেন, আপনার পরিচয় আপনার মুখের কথায় নয়— আপনার কাজেই প্রকাশ পাবে।
একদিন সময়ই সবার সামনে বলে দেবে— কে শুধু শব্দ করেছিল, আর কে সত্যিই মূল্যবান ছিল।