এ সালাম চান তরফদার,ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামারপাড়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পাঁচ পীরের দরগা আজও ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সম্প্রতি এই দরগা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের মুখে জানা যায়, এখানে সমাহিত রয়েছেন হযরত শাহ সুলতান কমরউদ্দীন (রুমি) (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হিসেবে পরিচিত পাঁচজন আধ্যাত্মিক সাধক, যাদের সম্মিলিতভাবে ‘পাঁচ পীর’ নামে ডাকা হয়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই দরগায় শায়িত সাধকগণের রূহানী প্রভাব ও আধ্যাত্মিক ফয়েজ আজও এলাকার মানুষ উপলব্ধি করে থাকেন। সে কারণেই প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে এখানে ওরস, ছামা-কাওয়ালী, ধর্মীয় আলোচনা ও ভক্তিমূলক নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত, দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শিশু, কিশোর, যুবক ও প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
লোককথা ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, এসব সাধক ইয়েমেন থেকে বাংলায় আগমন করেছিলেন। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করে ইসলামের শিক্ষা, মানবতা, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার বাণী প্রচার করেন। তাদের প্রচেষ্টা ও ত্যাগের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে ধর্মীয় চর্চা ও আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি সুদৃঢ় হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এই দরগাটি বর্তমানে অনেকটা অযত্ন ও অবহেলার মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পাঁচ পীরের দরগাটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে এবং মহান সাধকগণের স্মৃতি আরও সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষিত হবে।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সংস্কার ও উন্নয়নে এগিয়ে আসেন। তাদের বিশ্বাস, এমন উদ্যোগ শুধু একটি দরগার সংরক্ষণই নয়, বরং বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






