
মোঃ জিল্লুর রহমান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বর্ষার নতুন পানি নামতেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারী। নিষিদ্ধ রিং জাল (চায়না দুয়ারি) ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মা মাছ ও পোনা। এতে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আষাঢ়-শ্রাবণের নতুন পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। এ সময় মাছের প্রজনন মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু জেলেরা নিষিদ্ধ রিং জাল ও কারেন্ট জাল পেতে মাছ শিকার করছেন। সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত এসব জালে ছোট পোনা থেকে শুরু করে ডিমভরা মা মাছ পর্যন্ত আটকা পড়ছে। পরে এসব মাছ স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “নিষিদ্ধ রিং জাল বা চায়না দুয়ারি জাল দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য একটি বড় অভিশাপ। নতুন পানি আসার পর থেকেই চলনবিলে দেশীয় মাছের বংশবিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি আইন অমান্য করে এসব জাল ব্যবহার করছে। আমরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তদারকি শুরু করেছি এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ ধরা পড়লে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা সম্ভব নয়। জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন ও বিক্রির উৎস বন্ধ এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এক সময় চলনবিল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।