
মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট :
“একটি গাছ, একটি প্রাণ—সবুজ হোক বাংলাদেশ” এবং “প্রকৃতি বাঁচলে, ভবিষ্যৎ বাঁচবে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এক ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারে একযোগে ১০০টি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) সকালে পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা, সিরাজগঞ্জের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সহযোগিতা করে প্রাণ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আন্দোলন এবং চলনবিল রক্ষা কমিটি।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বৈলাম, বুদ্ধনারিকেল, জাম, বকুল, সিভিট, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, চাপালিশসহ বিভিন্ন দেশীয়, বিরল ও বিপন্নপ্রায় প্রজাতির মোট ১০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুবুল ইসলাম পলাশ বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে এবং সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার। তাই ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় বিরল ও বিপন্নপ্রায় বৈলাম বৃক্ষ রোপণ এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক পরিবেশযাত্রা পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে এই প্রথম মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারে একযোগে এমন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। এ উদ্যোগ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণেই নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
পরিবেশবাদীরা মনে করেন, দেশীয় ও বিরল প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে আয়োজকরা দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।