শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
কাজিপুরে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের
উল্লাপাড়ায় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি
ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ,বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচির উদ্বোধন
সিরাজগঞ্জে মুসল্লিদের মোটরসাইকেল নিরাপত্তায় ফ্রী টোকেন গ্যারেজ করলেন হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার
প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলের দুর্দান্ত জয়
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৩৫
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ১৫ প্রান্তিক সদস্যের মাঝে ৩০০ পিস হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
বড়ালব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশনে ট্রেনের আসন ও যাত্রাবিরতি বৃদ্ধির দাবি এমপি রুমার

ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে হতাশ চাষীরা, এক মণ ধানেও মিলছেনা একজন শ্রমিক

Download Photocard

এইচএম.ফারুকঃ

রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে চিকন ধান (জিরাশাইল) উৎপাদনের দেশ জুড়ে ব্যাপক সুনাম রযেছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে চিকন ধানের উৎপাদন উল্লেখ যোগ্য হারে বেশি হয়। এবছর রাজশাহীর তানোরে চলতি বোরো মৌসুমের ধান ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকের কপাল ভাঁজ। শ্রমিক সংকট প্রতিকুল আবহাওয়া ও বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকা এর কারন হিসেবে ধরা হচ্ছে। চাষীরা বলছেন, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি পর্যন্ত উঠছে না তাদের । এতে বোরো চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং প্রতিকুল আবহাওয়া ধান মাটিতে নুয়ে পড়ার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে, ফলে মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানাগেছে, বাজারে এক মণ ধান চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ১১শ -১১শ ৫০টাকা দরে (৪১ কেজি)। অথচ চালের বাজারে কমেনি চালের দাম। চাষীরা বলছেন মিলার ও আড়ৎদাররা যোগসাজশ করে ধানের দাম নিয়ে সিন্ডিকেট করছে। তারা ভরা মৌসুমে কম দামে ধান সংগ্রহ করে মজুত করে, যখন কৃষদের ঘরে ধান থাকে না তখন মজুত করা ধানের চাল উচ্চ মূল্যে বাজারে সরবরাহ করে। অপর দিকে আড়ৎদাররা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে মিলারদের মোকাম থেকে নিয়মিত গাড়ি না আসায় ধানের দাম কমছে বলে মনে করছেন তারা।

ফলে হাট বা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ধান বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। তবে, হাট বাজার থেকে সরাসরি সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহ ব্যবস্থা করলে লাভবান হবেন তারা। তাদের মতে, এভাবে বিক্রি করলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।

চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে আলু চাষে ব্যাপক লোকসানের পর ধানেও ক্ষতির মুখে পড়ায় অনেক কৃষক চরম সংকটে পড়েছেন। উপজেলার বিলকুমারী বিলে আগাম বোরো ধান চাষ হয়। এছাড়া আলু উত্তোলনের পর মার্চ মাসের শুরু থেকে আরেক দফা বোরো চাষ শুরু হয়।

চান্দুড়িয়া ইউপির চান্দুড়িয়া ব্রিজ ঘাট থেকে তানোর পৌরসভা হয়ে কামারগাঁ ইউপির মালশিরা চৌবাড়িয়া ব্রিজ ঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ করা হয়। বর্তমানে এসব জমির ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিঘা প্রতি গড়ে ২০ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। 

রাজিব নামের এক কৃষক জানান, তিনি সাড়ে ১৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। কিছু  জমির ধান কেটে বাড়িতে আনা হয়েছে। শ্রমিক সংকটে বাঁকি ধান মাঠ থেকে ঘরে আনতে চিন্তায়  তিনি। তিনি বলেন ঋণ করে চাষাবাদ করেছি ধান ঘরে রাখতে পারবো না বিক্রি করতে হবে। তবে বাজারে যে দাম তাতে ঋণের টাকা উঠবে বলে মনে হয় না। 

হালচাষ, সার, বীজ, কীটনাশক বাবদ খরচ প্রতিবছরের তুলনায় বেড়েছে, এছাড়া মাড়াইয়ের জন্য আগের তুলনায় বেশি ধান দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। আগে যেখানে ১৫ কেজি ধান দিতে হতো, এখন ২০ কেজি পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

হাবিবুর রহমান নামের আরেক কৃষক জানান, ২৪ কাঠা জমির ধান কাটা হয়েছে। ৮ জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হয়েছে, যেখানে জনপ্রতি একবেলা ৭০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়েছে, আর সকাল ৭টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১০০০-১৩০০ টাকা। তিনি বলেন, এখন শ্রমিক সংকট এবং অতিরিক্ত মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বহিরাগত শ্রমিক না আসায় ধান কাটতে দেরি হচ্ছে এবং স্থানীয় শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তারা চুক্তি ভিত্তিক কাজ না করে দৈনিক মজুরিতে কাজ করছেন। ফলে ধান কাটা খরচ আরও বেড়ে গেছে।

সরকারী খাদ্য গুদামে সরকার ধান ক্রয় করলেও প্রশাসনিক জটিলতা, লেবার খরচ, পরিবহন খরচ ও দালালদের দৌরাত্মের কারনে অনেক কৃষকই ধান নিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে যায় না। তবে কৃষকরা ধান নিয়ে না গেলোও প্রভাবশালী চক্র বরাদ্দের ধান পূর্ণকরে দেয়। যার কারনে কৃষকরা কোনো সুবিধা বা উপকার পায় না। তাই সরাসরি হাট থেকে চাষীদের থেকে সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের দাবি জানান তারা।

মনোরঞ্জন দাস মুনা জানান, তিনি ১৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। লিজমানি সহ বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘাতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেক কৃষকই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। ধানের দাম কম, কিন্তু চালের দাম বেশি। এ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক কৃষকেরা চরম সংকটে পড়েছেন। তারা সরকারি হাটে সরাসরি ধান ক্রয় বা নির্ধারিত দামে সংগ্রহ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিলের ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০