
সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জ শহরে বাছাইকৃত যুবকদের অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুবসমাজের নৈতিক উন্নয়ন, আদর্শিক চেতনা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এ বৈঠককে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শহরের একটি মিলনায়তনে এ শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব বিভাগ সিরাজগঞ্জ শহরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিরাজগঞ্জ শহর যুব বিভাগের সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ছদরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব বিভাগের সেক্রেটারি মাঈনুল হক মনি।

শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী যুবকদের মাঝে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ, মনোযোগী উপস্থিতি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহর জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল লতিফ, সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তফা মাহমুদ এবং আবু কাউসার তালুকদার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও যুব বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ শামীম রেজা, অর্থ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মুবিন, পরিকল্পনা সম্পাদক মোঃ আব্দুল মতিনসহ যুব বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, প্রতিনিধি ও বাছাইকৃত তরুণ সদস্যরা।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজ নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, অপসংস্কৃতি ও নৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তরুণদের আদর্শিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অপসংস্কৃতি ও মাদক বিস্তার লাভ করছে। এসব অপতৎপরতা থেকে তরুণদের রক্ষা করতে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যুবকদের মাঝে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক শিক্ষা বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যারা আজ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে, তাদেরকে এখন থেকেই আদর্শিক ও নৈতিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।”

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী যুবকদের মাঝে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক করণীয় তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও নিয়মিত শিক্ষা বৈঠকের আয়োজনের দাবি জানান।
সবশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয় এবং উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।