
ছাম্মি আহমেদ আজমীর :
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শ্যামলী রানী শুধু একজন শিক্ষকই নন তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে একজন অনুপ্রেরণার নাম।শ্রেণিকক্ষে কোমল মমতা আর আন্তরিকতায় পাঠদান করার পাশাপাশি সংগীতচর্চার মাধ্যমেও তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন সৌন্দর্য সংস্কৃতি ও মানবিকতার বার্তা।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি যেমন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত তেমনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর রয়েছে আলাদা পরিচিতি। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও সংগীতকে ভালোবেসে তিনি নিয়মিত চর্চা করে যাচ্ছেন। তাঁর কণ্ঠে দেশাত্মবোধক,রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত শুনে মুগ্ধ হন সহকর্মী,শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি এক মহান ব্রত। আর সেই ব্রতকে হৃদয়ে ধারণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষিকা শ্যামলী রানী। তিনি একাধারে একজন আদর্শ শিক্ষিকা, অন্যদিকে সংগীতপ্রেমী সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। কোমল মমতা, দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতায় তিনি হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত প্রিয় মুখ।
পাঠশালার শ্রেণিকক্ষে তিনি যেমন জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন, তেমনি সংগীতের সুরে ছড়িয়ে দেন সৌন্দর্য ও মানবিকতার বার্তা। তাঁর কণ্ঠে সংগীত যেন শিক্ষার্থীদের মনকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও অনুপ্রাণিত। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে তিনি গড়ে তুলছেন একটি সুন্দর প্রজন্ম।
শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, ধৈর্য ও স্নেহময় আচরণ সহজেই সবার হৃদয় জয় করেছে। সহকর্মীদের কাছেও তিনি একজন দায়িত্বশীল ও সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ হিসেবে পরিচিত। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয়
সহকারী শিক্ষিকা শ্যামলী রানী বলেন,শিক্ষকতা আমার দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা। আর সংগীত আমার আত্মার শান্তি। আমি বিশ্বাস করি একটি শিশু শুধু বইয়ের জ্ঞানেই বড় হয় না সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষাও তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই পাঠদানের পাশাপাশি আমি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। তিনি আরও বলেন,
শিশুরা যখন গান শেখে কবিতা আবৃত্তি করে কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চায় অংশ নেয় তখন তাদের আত্মবিশ্বাস ও মননশীলতা বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতের সুন্দর সমাজ গঠনে লেখাপড়ার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই।
শ্যামলী রানীর স্বামী সুব্রত কুমার দাস গোপাল বলেন,শ্যামলী একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক এবং একজন ভালো মনের মানুষ।পরিবার,বিদ্যালয় ও সংগীত সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সামনে নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি তার ভালোবাসা ও নিষ্ঠা আমাকে সবসময় গর্বিত করে। আমি চাই সে ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদান রেখে যাক।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও জানান,শ্যামলী রানী ম্যাডামের আন্তরিকতা,কোমল ব্যবহার এবং সাংস্কৃতিক মনন শিশুদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর মতো শিক্ষক সমাজে শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন বলেও মনে করেন তারা।