
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে নাঈম নামে ৫ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় মাইশা নামে ১১ বছরের আরেক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নাফিসা নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী এখনও নিখোঁজ রয়েছে। নদীর উত্তাল স্রোত মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে একটি নিষ্পাপ প্রাণ, আর আরেকটি পরিবারের অপেক্ষাকে পরিণত করেছে সীমাহীন উৎকণ্ঠায়। ২৬ জুন ২০২৬ রোজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার করনাই এলাকার টাঙ্গন নদীর আতাইঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম জাবরহাট সরকারপাড়া গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। উদ্ধার হওয়া মাইশা আব্দুর রশিদের মেয়ে। নিখোঁজ নাফিসা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জুলফিকার আলীর মেয়ে। এসএসসি পরীক্ষা শেষে সে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয়রা জানায়, ৩ জন একসাথে নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে নাঈম ও মাইশাকে উদ্ধার করে। গুরুতর অবস্থায় নাঈমকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। মাইশা বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। নিখোঁজ নাফিসাকে উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ব্যাপক অভিযান চালায়। তবে রাত ৯টা পর্যন্ত তল্লাশি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, রাত ৯টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান মেলেনি। শনিবার দিনের আলোয় আবারও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই ঘটনায় একটি আনন্দময় বেড়ানো মুহূর্তেই পরিণত হলো শোক আর অনিশ্চয়তার গল্পে। একদিকে স্বজন হারানোর আহাজারি, অন্যদিকে নিখোঁজ কিশোরীর ফিরে আসার ক্ষীণ আশায় প্রহর গুনছে ২টি পরিবার।