
সেলিম রেজা, রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীর বুকে ভেসে থাকা বিশাল কচুড়িপানার স্তূপ এখন পরিণত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক মিলনমেলায়। নদীর মাঝখানে জমে ওঠা কচুড়িপানার বিশাল স্তূপের ওপর গড়ে উঠেছে অস্থায়ী চা-ফুচকার দোকান। প্রতিদিন বিকেল হলেই সেখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে বিপুল পরিমাণ কচুড়িপানা এক জায়গায় আটকে গিয়ে বড় আকার ধারণ করে। পরে কৌতূহলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী সেখানে অস্থায়ীভাবে চা, চানাচুর, ফুচকা ও হালকা খাবারের দোকান বসান। এরপর থেকেই জায়গাটি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিকেলের পর নদীর সেই অংশে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু-কিশোররা খেলাধুলায় মেতে ওঠে, তরুণরা আড্ডা দেন, অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন। কেউ মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: মফিদুল ইসলাম (দুলু) বলেন, “নদীর ওপর এমন বড় কচুড়িপানার স্তূপ আগে দেখিনি। তাই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ এটি দেখতে আসছেন।”
থানা ছাত্রনেতা মো: মেহেদী হাসান বলেন, “এটি মানুষের জন্য নতুন ধরনের বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠেছে। তবে এখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তাই নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”
স্বেচ্ছাসেবী মো: আবু রায়হান তালুকদার বলেন, “কচুড়িপানার স্তূপের ওপর অতিরিক্ত মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে জানান নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় দ্রুত কচুড়িপানা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসন-এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”