
পাবনা ব্যুরো চীফ: পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বৃদ্ধি এবং আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
বুধবার (১০ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে এ দাবি উত্থাপন করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) আসনসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ রেলস্টেশন ও চাটমোহর রেলস্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ বড়াল ব্রিজ স্টেশন ব্যবহার করেন। অন্যদিকে পাবনা সদর, আটঘরিয়া ও চাটমোহরের অনেক যাত্রী চাটমোহর রেলস্টেশনকে প্রধান ভরসা হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
বর্তমানে এ দুটি স্টেশনে ঢাকাগামী পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। বড়াল ব্রিজ স্টেশনে পাঁচটি ট্রেনে প্রায় ১৮০টি এবং চাটমোহর স্টেশনে প্রায় ২৮০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। তবে প্রতিদিন বরাদ্দকৃত আসনের তুলনায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি যাত্রী এসব স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে, বিশেষ করে ঢাকায় যাতায়াত করেন। ফলে অধিকাংশ যাত্রীকে আসনবিহীন টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করতে হয়।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, “কৃষি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। এসব প্রয়োজনেই প্রতিনিয়ত মানুষকে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে হয়। ট্রেন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু সীমিত আসন বরাদ্দের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের এ দাবিকে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। ভাঙ্গুড়া বাজারের এক বাসিন্দা জানান, যাত্রীদের তুলনায় বড়াল ব্রিজ স্টেশনে টিকিটের সংখ্যা খুবই কম। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।
এদিকে বড়াল ব্রিজ রেলস্টেশনের ইনচার্জ শফিউল ইসলাম বলেন, “এই স্টেশনে আসন বরাদ্দের তুলনায় যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেশি। তাই সংসদ সদস্যের উত্থাপিত দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও জনকল্যাণমূলক। যাত্রীসেবার স্বার্থে দ্রুত বিষয়টি বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করবে, যাতে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।