সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
রাজনৈতিক দলের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা কেবল সরকারের কর্মকাণ্ড বা শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের ওপর। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিটি কার্যক্রম জনগণের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকে। ফলে কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলে তার প্রভাব পুরো দলের ভাবমূর্তির ওপর এসে পড়ে।
এমন মন্তব্য করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ও আসন্ন জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মির্জা মোস্তফা জামান।
তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাবরণ করেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং মামলা-হামলার মুখোমুখি হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা দলের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। তাদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও অবদানের কারণেই দল আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। তাই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী কিংবা দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ, সাহসী এবং ক্লিন ইমেজের নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।
মির্জা মোস্তফা জামান আরও বলেন, বিশেষ করে যেসব পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিএনপির আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলকে শক্তিশালী করেছে, তাদের অবদানও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ রাজনৈতিক দুঃসময়ে যারা দলের পাশে ছিল, সুসময়ে তাদের মূল্যায়ন না হলে কর্মীদের মাঝে হতাশা তৈরি হতে পারে।
তিনি হাইব্রিড রাজনীতির পরিবর্তে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনীতিতে নতুন মানুষের অংশগ্রহণ অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়। তবে দলীয় আদর্শ, ইতিহাস ও সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছাড়া শুধুমাত্র সুবিধাবাদী উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে আগত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে প্রকৃত ত্যাগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তাই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
তাই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নেতা-কর্মীর প্রতি সমান আচরণ করা এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ন্যায্যতা বজায় রাখা। এতে কর্মীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দল আরও শক্তিশালী হবে।
কিছু মানুষ প্রকাশ্যে দলের প্রতি আনুগত্য দেখালেও গোপনে দলীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। তাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দলের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।
পরিশেষে তিনি বলেন, বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং জনগণমুখী রাজনৈতিক দলে পরিণত করতে হলে দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং ত্যাগী নেতৃত্বের মূল্যায়নের কোনো বিকল্প নেই।






