মোঃ হোসেন আলী ছোট্র:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে সেবার মানোন্নয়ন, দালালমুক্ত পরিবেশ, দ্রুত নামজারি ও খারিজ কার্যক্রম, নিয়মিত গণশুনানি এবং সেবা গ্রহীতাবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের নজির স্থাপন করেছেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফান নজমু। তাঁর নেতৃত্বে ভূমি অফিসের কার্যক্রমে এসেছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা, যার সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) সকালে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সেবাগ্রহীতাদের ভিড় থাকলেও নেই কোনো বিশৃঙ্খলা কিংবা দালালচক্রের তৎপরতা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসা মানুষজন সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সেবা গ্রহণ করছেন।

নামজারি করতে আসা মাসুমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালাম মিয়া জানান, “দুই বছর আগে খারিজ করতে এসে দালাল ধরে অনেক টাকা খরচ করে কাজ করতে হয়েছিল। এবার নির্ধারিত তারিখে এসে কোনো বাড়তি টাকা ছাড়াই কাজ পেয়েছি। খুবই ভালো লাগছে।”
জমি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অংশ নিতে আসা শিয়ালকোল ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের আলম মিয়া বলেন, “আমার জমির সমস্যা নিয়ে আবেদন করার পর এসিল্যান্ড স্যার নিজে ফোন করে আমাকে আজ অফিসে আসতে বলেছেন। আগে কখনো এমন দায়িত্বশীলতা দেখিনি। এখন সাধারণ মানুষ সরাসরি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং সমস্যার সমাধানও পাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এসিল্যান্ড স্যার সাধারণ মানুষের কথা শোনার জন্য অফিসের বাইরে বসেন, যাতে কাউকে তাকে খুঁজতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে না হয়। ভূমি অফিস এখন পুরোপুরি দালালমুক্ত পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে।”
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গণশুনানি পুনরায় চালু করা হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পৌর ভূমি অফিসেও সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এখন কোনো আবেদনকারী শুনানিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি নিয়ে উপস্থিত হলে আবেদন বাতিল না করে তাকে সময় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহেও আগের মতো কোনো বিড়ম্বনা নেই বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

শুধু সেবার মানোন্নয়নই নয়, উপজেলা ভূমি অফিসের পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা। আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমি অফিস গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভূমি অফিসের এই পরিবর্তন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন খানের প্রশংসা করছেন ভূমি সেবায় আগত সাধারণ মানুষ । সেবাগ্রহিতারা মনে করেন তাঁদের দুইজনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আফিফান নজমু।
আফিফান নজমু বলেন, “এখানে যোগদানের পর থেকেই জেলা প্রশাসক স্যার ও ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় ভূমি সংক্রান্ত প্রায় সব সেবা ও ফাইল অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রকৃত সেবাগ্রহীতাকে অফিসে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা দালাল ও তৃতীয় পক্ষের হয়রানি থেকে রক্ষা পান।

তিনি আরও জানান, “যে সেবা তাৎক্ষণিক দেওয়া সম্ভব, তা সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব সেবায় সময় প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস বা ফোনের মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো সেবা এই অফিস থেকে দেওয়া সম্ভব না হলে সঠিক দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন খান বলেন, “একজন উদ্যোগী কর্মকর্তা চাইলে একটি উপজেলার চিত্র বদলে দিতে পারেন। সৃজনশীল কাজের মানসিকতা, জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতা এবং কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই ভূমি অফিসে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফান নজমু অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, কৃষিজমির মাটি কাটা এবং সরকারি খাস জমি দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান ছাড়াও সরকারি জমি উদ্ধার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তিনি ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সেবার মানোন্নয়ন, দালালমুক্ত পরিবেশ, ডিজিটাল কার্যক্রম এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক উদ্যোগের কারণে বর্তমানে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় সচেতন মহল।






