
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ;
ঠাকুরগাঁও: রাণীশংকৈল উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় যুবতীকে বিয়ে দেয়ার কথা বলে সুকৌশলে অপহরণ করে গোপন আস্তানায় নিয়ে গিয়ে ২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী যুবতী তার ভাইকে সাথে নিয়ে থানায় ২ ধর্ষকের নামে মামলা রুজু করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আসমা খাতুন রাণীশংকৈল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সন্ধ্যারই গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে। অসহায় আসমা পৌর শহরে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় আসমা মানুষের বাড়িতে কাজ শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে থানার সামনে মেইন সড়ক থেকে শওকত ওরফে (তরকারী), নাজিরুল ইসলাম নামে দুই স্থানীয় ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে তাকে একটি চার্জার ভ্যানে তুলে অপহরণ করে নিয়ে। পরে খুনিয়া দীঘি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন বাঁশঝাড়ে নিয়ে গিয়ে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা তাকে মেইন সড়কে ফেলে যায়। আসমা বাড়ি ফিরে ধর্ষণ হওয়ার ঘটনাটি তার মামাতো ভাই রেজাউল করিমকে জানায়। পরে পারিবারিকভাবে তারা আইনের আশ্রয় নেয়।
এছাড়াও এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর রেজাউল করিম ঘটনাটি নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।
রাণীশংকৈল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী আসমা খাতুন বাদী হয়ে অভিযুক্ত ২ জনের নামে থানায় মামলা করেন। এনিয়ে ওই রাতেই মামলার ১নং আসামি শওকত আলী ওরফে (তরকারি) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে জেলা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামি নাজিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।