
সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক: ব্যক্তি নয়, কাজের মূল্যায়ন এবং দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এরশাদ রানা। তিনি বলেন, একটি উন্নত, আধুনিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে তার দলীয় পরিচয় দিয়ে নয়, বরং সমাজের জন্য তার অবদান দিয়ে মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
এরশাদ রানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষকে বিচার করা হয় তিনি কোন দল বা মতাদর্শের অনুসারী—তা দিয়ে। অথচ একটি এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন মানুষের পরিচয়ের চেয়ে তার কাজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একজন মানুষ যদি সমাজের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং জনকল্যাণে ভূমিকা রাখেন, তাহলে তার সেই কাজই হওয়া উচিত মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভেদ নয়, প্রয়োজন ঐক্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে জনস্বার্থে সেই মতভেদ দূরে রেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে আগে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। মানুষের সমস্যা বুঝতে হবে এবং আন্তরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। অহংকার, হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে পারলেই একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।
এরশাদ রানা বলেন, বর্তমানে সমাজে পরচর্চা, বিভেদ ও নেতিবাচক আলোচনার প্রবণতা বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে সমাজের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো ইতিবাচক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। সৃজনশীল চিন্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডই একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের ভিত্তি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির মূল পরিচয় হওয়া উচিত মানুষের সেবক হিসেবে। জনপ্রতিনিধি যদি মানুষের কাছে সহজলভ্য হন, তাদের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব। উন্নয়নের প্রতিটি উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
শিয়ালকোল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করবেন। সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত শিয়ালকোল ইউনিয়ন গড়ে তোলাই হবে তাঁর অঙ্গীকার। তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, সহযোগিতা ও সার্বিক সমর্থন কামনা করেন।