শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের
উল্লাপাড়ায় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি
ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ,বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচির উদ্বোধন
সিরাজগঞ্জে মুসল্লিদের মোটরসাইকেল নিরাপত্তায় ফ্রী টোকেন গ্যারেজ করলেন হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার
প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলের দুর্দান্ত জয়
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৩৫
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ১৫ প্রান্তিক সদস্যের মাঝে ৩০০ পিস হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
বড়ালব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশনে ট্রেনের আসন ও যাত্রাবিরতি বৃদ্ধির দাবি এমপি রুমার
সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ,প্রতারণা মামলায় মিমুল গ্রেফতার

সততা,ত্যাগ ও আদর্শের রাজনীতিতে অবদান রেখেও স্বীকৃতি পায়নি মির্জা মোরাদুজ্জামান এর পরিবার

সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহু ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী পরিবারের অবদান রয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে এসব পরিবারের নেতারা মাঠের রাজনীতি, গণমানুষের অধিকার আদায় এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সময়ের ব্যবধানে এসব পরিবারের অনেকে এমপি, মন্ত্রী, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ দলীয় গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পদে দায়িত্ব পালন করার সুযোগও পেয়েছেন।

তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সততা, নীতি-আদর্শ ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য থাকা সত্ত্বেও সিরাজগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার আজও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত বলে মনে করছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সেই পরিবারটি হলো মির্জা মোরাদুজ্জামান এর পরিবার।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাহেবের পরিবার থেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। ডা. এম এ মতিন সাহেবের পরিবার থেকেও এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন।

এছাড়া ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর পরিবার এবং মোতাহার হোসেন তালুকদার এর পরিবার থেকেও এমপি–মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
কিন্তু মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকেও কখনো ক্ষমতার রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়নি। বরং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, সংগঠনকে ধরে রাখা, রাজনৈতিক আদর্শ ও সততার সঙ্গে রাজনীতি করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ফলে নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও বঞ্চনার মধ্যেও তারা কখনো দল থেকে দূরে সরে যাননি বলে দাবি করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেন, “এই পরিবারটি কখনো ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি করেনি। তারা জনগণের কল্যাণ ও দলের স্বার্থকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছে। ক্ষমতা বা পদ-পদবীর জন্য কখনো আপস করেনি। দলের কঠিন সময়ে তারা রাজপথে থেকেছে, নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছে। অথচ মূল্যায়নের সময় তাদের নাম বারবার উপেক্ষিত হয়েছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে অনেকেই সুযোগসন্ধানী অবস্থান নিয়ে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় মাঠের তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা তৈরি হচ্ছে। মির্জা মোরাদুজ্জামান এর পরিবার তার অন্যতম উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তারা।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, রাজনীতিতে শুধু এমপি বা মন্ত্রী হওয়াই বড় বিষয় নয়। জেলা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপূর্ণ পদ রয়েছে, যেখানে এই পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে মির্জা মোস্তফা জামানের মতো একজন ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।

কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান থাকার পরও মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবারের কেউ এখনো সেই সুযোগ পাননি, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয়।

নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিবার কখনো ছলচাতুরি বা সুবিধাবাদী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। আদর্শিক অবস্থান অটুট রেখে দল ও জনগণের জন্য কাজ করেছেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও পরিবারটির আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে মির্জা মোস্তফা জামান তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের রাজনৈতিক ধারা ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, সিরাজগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে ত্যাগী ও আদর্শিক পরিবারগুলোর মূল্যায়ন জরুরি। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং সাংগঠনিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।

তারা বলেন, “যারা বছরের পর বছর দলকে আগলে রেখেছে, মামলা-হামলা সহ্য করেছে, জীবন বাজী রেখে শত রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন—তাদের মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রাজনীতিতে আদর্শ ও ত্যাগের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন, মির্জা মোরাদুজ্জামান এর পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের বিষয়টি দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।
বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।

বিশেষ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী, সৎ ও আদর্শিক পরিবার হিসেবে মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবারের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০