
ছাম্মি আহমেদ আজমীর :
সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে দীর্ঘদিনের জনদাবি রায়পুর রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিরাজগঞ্জ।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ বাজার রেলস্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক,পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু,সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফি ভূইয়া,সিরাজগঞ্জ জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আবু হাসিম তালুকদার প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন,উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে রায়পুরে একটি পূর্ণাঙ্গ রেল জংশন প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ এ দাবির পক্ষে সোচ্চার থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন,রায়পুরে রেল জংশন প্রতিষ্ঠিত হলে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ,দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন,শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।তারা উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগের সম্ভাবনার দিক থেকে রায়পুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে রেল জংশন স্থাপন করা হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন,রায়পুর রেল জংশন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দাবি নয় এটি সমগ্র সিরাজগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। দীর্ঘদিনের এ ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য: মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা রায়পুর রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও কর্মসূচি পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।রায়পুর রেল জংশন প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং সিরাজগঞ্জের সামগ্রিক অর্থনৈতিক,সামাজিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।