
মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট :
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা দুটি মানহানির মামলায় জামিন পেয়েছেন।
রোববার (১৪ জুন ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক সুমন কুমার সূত্রধর তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-কে নিয়ে প্রকাশ্যে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর কর্নেল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। একই দিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দেন।
তবে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল আদালত মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে এক আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।” পরে ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এ ঘটনায় মন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে দাবি করে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে, গত ২৭ এপ্রিল একই অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মুফতি আমির হামজা-কে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। সেই মামলায় স্থায়ী জামিনের আবেদন করতেই তিনি সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। ফলে সিরাজগঞ্জে দায়ের করা দুটি মানহানির মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন।