
মোঃ সোহান সেখ:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের রোকনীপাড়া গ্রামে দোকান দখল করতে এক নারী ও তার নাতনির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোছা: নারগীস বেগম ও তার নাতনি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা: সুরমিলা খাতুন।
সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আহত নারগীস বেগম সদর উপজেলার রোকনীপাড়া গ্রামের মৃত আল মাহমুদ ভূইয়ার স্ত্রী। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরদিকে তার নাতনি সুরমিলা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারগীস বেগম বলেন, প্রথমে ঘরে ঢিল দেয়, দরজা খুলে দেখি পাপ্পু আসছে, ওমনেই আমি ঘরে ঢুকি। পেছনে এসে দেখি ও আমার ঘরে ঢুকেছে। ঢুকেই আমাকে ছুড়ি দিয়ে ফ্যাসাই, বাম কানে। এরপরে আমাকে অতর্কিতভাবে মুখে কিল ঘুষি দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে নারগীস বেগমের নাতনি মোছা: সুরমিলা খাতুনের ওপরও হামলা করা হয়। এতে দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (৩০ জুন) হাসপাতালে নিয়ে যান। নারগীস বেগমকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সুরমিলার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বগুড়ার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোছা: লতিফা বেগম বলেন, খবর পেয়েই আমরা মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পরে আমি যেয়ে দেখি নাতি মায়ের ঘরে ও নারগীস বেগম চৌকির ওপরে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখি। পরে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গেছি।
পরিবারের দাবি, হামলার পেছনে সম্পত্তি ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। নিহত আল মাহমুদ ভূইয়ার মালিকানাধীন লেবুর মোড় এলাকার একটি মনোহারি দোকান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর নারগীস বেগম দোকানটি অন্য একজনের কাছে ভাড়া দেন।
নারগীস বেগমের মেয়ে মোছা: রিয়া বলেন, আমার বাবা মারা গেছে। আমাদের যে দোকানটি ছিল, সেটি ভাড়া দিয়েছি। ভাড়াটিয়াকে বলছে, তুই দোকানদারি করতে পারবি না। দোকান তালা দেবো। পরে দোকানদার বিষয়টি আমার মা রে বলছে। মূলত ওই দোকানটি নিয়েই ঝামেলা। আমার মা একটি ছোট চাকরি করে, সেটা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হয়না।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মো. পাপ্পুর নেতৃত্বে তিনজন মিলে এ হামলা চালিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।