
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ :
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের বিয়াড়াঘাট এলাকায় গাজীপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্য মোঃ রুবেলের বিরুদ্ধে একটি মনোহারী দোকানে সংঘবদ্ধ হামলা করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পাশাপাশি তার দুই ভাই ও ছেলেকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদস্য হওয়ার সুবাদে পূর্ব বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দোকানে ঢুকে এই হামলা চালায় মোঃ রুবেল ও তার সাথে কয়েকজন ব্যক্তি। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন রামগাতীঁ গ্রামের মোঃ বাবলু মন্ডল ও মোঃ হযরত মন্ডল। এসময় নগদ টাকাও লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলার দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্য মোঃ রুবেল কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও হামলা চালান, যা পুরো ঘটনাটির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
ভুক্তভোগীর ছেলে ছাব্বির হোসেন এঘটনায় সিরাজগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, পুলিশ সদস্য মোঃ রুবেল এর নেতৃত্বে মোঃ জুয়েল, মোঃ জিহাদ, মোঃ শামীম, মোঃ বেল্লাল, মোঃ হেলাল, মোঃ হাফিজুল, মোঃ ফারুকসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাবার দোকানে হামলা চালায়।
একপর্যায়ে তার বাবা মোঃ বাবলু মন্ডলের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলায় তার চাচা হযরত আলীর হাত ভেঙে যায়৷ এসময় অন্যান্যরা আহত হন। হামলার সময় দোকানের ক্যাশ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহতরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ছোট ভাই মোঃ হাসেন আলী বলেন, গতকালকে দোকানের জায়গা নিয়ে কথাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়৷ আমার ভাই ও রুবেলের বাবার সাথে৷ সকালে আমার ভাইয়ের উপরে এই হামলা করা হয়েছে। আরেক ভাইয়ের দুই হাত ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার এক নম্বর আসামি রুবেল বলেন আমি কনস্টেবল মানুষ আমার বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার নাই, তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে সংবাদ প্রতিবেদন করুন।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য নিতে থানায় গেলে, তাকে পাওয়া যায়নি। সেজন্য বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি৷