
ছাম্মি আহমেদ আজমীর :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ। শতাব্দীর প্রাচীন,প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ী গোবিন্দ বাড়ী ও ধর্মসভা মন্দিরের আয়োজনে এ পূজাকে ঘিরে শহরজুড়ে বইছে ভক্তি,আনন্দ ও উৎসবের অনন্য সমাহার।পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণগুলোতে করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা ও বর্ণিল আলোকসজ্জা। রঙিন আলো, ফুল ও ঐতিহ্যবাহী নকশায় সজ্জিত মন্দিরগুলো যেন নতুন এক রূপে সেজে উঠেছে। ষষ্ঠি পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী বাসন্তী পূজা। ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে মন্দির এলাকা। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা-অর্চনা,ধর্মীয় সংগীত,আরতি ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এক পবিত্র ও আধ্যাত্মিক আবহ বিরাজ করছে। শ্রী শ্রী বাসন্তী মাতার পূজাকে ঘিরে প্রতিদিনই নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পূজা-অর্চনা,আরতি,চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ প্রার্থনা। ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে মাতার চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করছেন এবং নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যাকালীন আরতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে।

এছাড়াও পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ,ধর্মীয় আলোচনা,কীর্তন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।এসব আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুশীলনেই সীমাবদ্ধ নয় বরং সামাজিক সম্প্রীতি,পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও জোরদার করছে। ছোট-বড়,নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত ও বর্ণিল।বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীরাও মন্দির পরিদর্শনে এসে পূজার সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ উপভোগ করছেন। ফলে পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মিলনমেলা।
কালীবাড়ী গোবিন্দ বাড়ী ও ধর্মসভা মন্দিরের সভাপতি বাবু জীবন বিশ্বাস, (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চন্দ্র সরকার,ও বাসন্তী পূজা উদযাপন সাব কমিটির আহবায়ক অরুন কুমার দাস বলেন,বাসন্তী পূজা আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পূজার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ়
হবে এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে এ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করুক।তারা আরও জানান, পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মন্দিরের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে,যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারেন।

উল্লেখ্য, যমুনা নদীতে সারাদিন ব্যাপী মহা অষ্টমী উপলক্ষে ঘুড়কা পৌর মহাশ্মশান ঘাটে পুণ্য স্মান হবে। প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই কালীবাড়ী গোবিন্দ বাড়ী ও ধর্মসভা মন্দিরে প্রতিবছরই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাসন্তী পূজা উদযাপিত হয়।এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি বরং আগের বছরের তুলনায় আরও বেশি জাঁকজমক ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে এ উৎসব যা ধর্মীয় চেতনার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।