সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে বেপারোয়া মাদক ব্যবসা। আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে নাম এসেছে দিয়ার পাচিল গ্রামের ওজেদুল ইসলাম জুয়েলের ছেলে সোহাগ (২৬)-এর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত সোহাগ খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মহিলা মেম্বার শেফালি বেগমের ছেলে। মায়ের জনপ্রতিনিধি পদের প্রভাব এবং স্থানীয় কিছু মহলের ছত্রছায়ায় সোহাগ এলাকায় এক বিশাল মাদকের জাল বিস্তার করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এলাকায় অনুসন্ধানের একপর্যায়ে এই মাদক সিন্ডিকেটের ভেতরের একটি চাঞ্চল্যকর গোপন ভিডিওচিত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের ভেতর বসে অত্যন্ত পেশাদার ভঙ্গিতে গুনে গুনে মাদকের পুড়িয়া বা প্যাকেটে মাদক তৈরি করা হচ্ছে এবং ক্রেতাদের সাথে টাকার লেনদেন চলছে। ছবিতে দৃশ্যমান ওই ব্যক্তিই মেম্বারপুত্র সোহাগ বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই এলাকায় ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মরণনেশা সরবরাহ করে আসছে। যুবসমাজকে টার্গেট করে গড়ে তোলা হয়েছে এই ব্যবসার নেটওয়ার্ক। ফলে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ প্রতিনিয়ত মাদকের মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদক ক্রয়ের অর্থ জোগাড় করতে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ঘর থেকে যখন মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়, তখন আমরা সাধারণ মানুষ কার কাছে যাব সোহাগের কারণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো নানা হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয়।
তারা আরো বলেন, পুলিশ প্রশাসনের একদম নাকের ডগায় দিনে-দুপুরে এই রমরমা মাদক কারবার চললেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল না। মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান হলেও মূল হোতা সোহাগ সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, এই মাদক কারবারের বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময়ই জিরো টলারেন্স। বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং অভিযুক্তের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ও অভিভাবক সমাজ ওসির এই আশ্বাসের পর দ্রুত মাদক সম্রাট সোহাগকে গ্রেফতার এবং তার পুরো সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর নজরদারি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার যুবসমাজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।






