
মোঃ হোসেন আলী ছোট্র :
সিরাজগঞ্জে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক চর্চাকে সামনে রেখে মাসব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব ও গ্রামীণ পণ্য প্রদর্শনী-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন ২০২৬) বিকেল ৪টায় শহরের বাজার স্টেশন এলাকার মুক্তির সোপান চত্বরে ফিতা কেটে এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে এ ধরনের উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। সাংস্কৃতিক আন্দোলন সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি এই উৎসব সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে।

নাট্য নিকেতন থিয়েটার-এর আয়োজনে এবং নিসা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মেলায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত গ্রামীণ ও কুটির শিল্প পণ্য প্রদর্শন করছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে লোকগান, বাউল সংগীত, নাটক, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এ উৎসব সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আগামিতেও আরো বেশী বেশী এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের লৌকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।