
মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট, :
“শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংস্কৃতি চর্চা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে চলমান মাসব্যাপী লোকজ সংস্কৃতি উৎসব ও গ্রামীণ পণ্য প্রদর্শনী-২০২৬ উপলক্ষে নাট্য নিকেতন গ্রুপ থিয়েটারের অঙ্গসংগঠন ছায়াছন্দ নৃত্যকলা একাডেমি এক বর্ণাঢ্য নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় পৌর শহরের বাজার স্টেশন সংলগ্ন মুক্তির সোপান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে। নাট্য নিকেতন গ্রুপ থিয়েটারের আয়োজনে, নিসা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিরাজগঞ্জের ব্যবস্থাপনায় এবং ছায়াছন্দ নৃত্যকলা একাডেমির সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লোকজ ও দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ছায়াছন্দ নৃত্যকলা একাডেমির ক্ষুদে ও তরুণ শিল্পীরা দলীয় ও একক নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গ্রামীণ জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। নৃত্যের ছন্দ, পোশাকের বৈচিত্র্য ও শিল্পীদের দক্ষ পরিবেশনা দর্শকদের প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাট্য নিকেতন গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি ও সাংবাদিক দিলীপ কুমার গৌর, সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট, নিসা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পরিচালক রফিকুল ইসলাম, দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদের সম্পাদক মোঃ মাসুদ রেজাসহ নাট্য নিকেতনের সদস্যবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজ থেকে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনা বিকশিত হয়। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এই লোকজ সংস্কৃতি উৎসব ও গ্রামীণ পণ্য প্রদর্শনী মেলায় প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন লোকজ ঐতিহ্যভিত্তিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পী, কারুশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসাহে নৃত্যানুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।