
সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক: : যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব বাহুকা এলাকায় নদী তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ঘটনায় নদীতীরবর্তী এলাকাজুড়ে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (২১ জুন ২০২৬) সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ব বাহুকা এলাকার তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এলাকাবাসী জানান, কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি ওঠানামা করছে। এতে সৃষ্ট প্রবল স্রোত বাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। বিকেলের দিকে হঠাৎ করে বাঁধের ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে ধসে পড়তে শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় একটি অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোক্তাল হোসেন বলেন, দুপুরে বাঁধসংলগ্ন জমিতে কাজ করার সময় তিনি প্রথম ধসের বিষয়টি দেখতে পান। পরে দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে জনবসতি ও ফসলি জমির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাহুকা এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান জানান, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে তিনি তার বসতভিটা হারিয়েছেন। বর্তমানে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ৮ জুন থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত স্রোতের কারণে কিছু এলাকায় তীররক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় পানির উচ্চতা প্রায় ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, “নদীর পানি ওঠানামার কারণে পূর্ব বাহুকা এলাকার তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে গেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জরুরি সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
এদিকে বাঁধ ধসের ঘটনায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বর্ষা মৌসুমে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।