
সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশন স্থাপনের দাবিতে সিরাজগঞ্জ শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প থেকে সিরাজগঞ্জ শহরকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শনিবার (২০ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার মানুষ প্রায় দুই দশক ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। একসময় রেলের শহর হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ আজও কাঙ্ক্ষিত রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা দাবি করেন, প্রকল্পের মূল নকশা অনুযায়ী কালিয়াহরিপুর হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত সংযোগ বজায় রেখে রায়পুরের ভেতর দিয়ে মাত্র দুই কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারণ করে জংশন স্থাপন করা হলে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সিরাজগঞ্জকে রেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কড্ডার মোড়, বিশ্বরোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে এবং রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর আন্দোলনেও যেতে প্রস্তুত রয়েছেন তারা।
সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি মাহবুব-এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেল,

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিম, সংস্কৃতিকর্মী আব্দুস সালাম মামুন, নাট্যকর্মী ফরিদুল ইসলাম সোহাগ, ডা. সাইফুল ইসলাম এবং সঞ্জয় গৌর।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।