
সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক :
রাজনীতি কেবল ক্ষমতার দাপট নয়, বরং সব হারিয়েও প্রতিকূল সময়ে মানুষের পাশে টিকে থাকার লড়াই। সিরাজগঞ্জের রাজপথের রাজনীতিতে এই সত্যটিই প্রমাণ করেছেন সাইদুর রহমান বাচ্চু। সাবেক এই তুখোড় ছাত্রনেতা বিগত ১৭ বছরের দমন-পীড়ন আর একের পর এক মামলার পাহাড় ডিঙিয়ে আজ কেবল একজন লড়াকু রাজনীতিবিদ নন, বরং সিরাজগঞ্জবাসীর আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছেন।

জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বর্তমানে সাইদুর রহমান বাচ্চুর বিরুদ্ধে মেতে উঠেছে একটি কুরুচক্রী মহল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়েছেন দলের ভেতরে থাকা কতিপয় সুবিধাবাদী নেতাকর্মীও। তারা নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তৃণমূলের প্রকৃত নেতা কর্মীরা মনে করেন, যারা সুসময়ে এসে দুঃসময়ের কাণ্ডারিকে সরাতে চায়, তাদের এই হীন চক্রান্ত সচেতন সিরাজগঞ্জবাসী সফল হতে দেবে না।

সাইদুর রহমান বাচ্চুর রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল ময়দান থেকে। একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তৃণমূলের নাড়ির স্পন্দন তিনি বোঝেন। ছাত্ররাজনীতির সেই লড়াকু মানসিকতা নিয়েই তিনি গত ১৭ বছর সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের হাল ধরে আছেন। রাজপথ থেকে উঠে আসা এই নেতৃত্বই তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে 'অভিভাবক' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম শিকার হয়েছেন তিনি। তাঁর কণ্ঠরোধ করতে এবং তৃণমূলের মনোবল ভাঙতে মোট ৬২টি মামলা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। কিন্তু জেলের দেয়াল বা আইনি বেড়াজাল এই সাবেক ছাত্রনেতাকে রাজপথ থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। প্রতিটি মিছিলে, প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী অস্থির সময়ে সাইদুর রহমান বাচ্চু এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়িয়ে থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাহারা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁকে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে।

তফসিল ঘোষণা না হলেও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে ঘিরে এখনই নির্বাচনী ময়দানে আগাম তৎপরতা ও টাকার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ পক্ষ অর্থের জোরে সাধারণ ভোটার ও কিছু পথভ্রষ্ট নেতাকর্মীকে প্রভাবিত করার মিশনে নেমেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষ এই ‘টাকার রাজনীতি’ ও ‘ঘরের শত্রুদের’ ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করতে নারাজ। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভোটের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার আগেই যারা কূটকৌশল শুরু করেছে, তারা আসলে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতৃত্বের কাছে পরাজিত হওয়ার ভয়ে ভীত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত স্নেহভাজন ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত সাইদুর রহমান বাচ্চু। তৃণমূলের রাজনীতিতে তাঁর একনিষ্ঠ অবদান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের আপসহীন নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় পর্যায়েও একটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যারা কেবল ভোটের সময় অর্থের ঝনঝনানি বা ষড়যন্ত্র নিয়ে আসে, তাদের চেয়ে বছরের পর বছর মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সাইদুর রহমান বাচ্চুই আগামী দিনে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার যোগ্য কাণ্ডারি।