শেখ মোঃ এনামুল হক,সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : চলছে সরকারি রাস্তার কাজ। কাজের স্বার্থে রাস্তার সাথে বাড়ির নিকট রেখে দেওয়া হয়েছে ইটের খোয়া। রাতের আধারে ৫ যুবক খোয়া চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি ঠিকাদার পক্ষ ইউপি সদস্যকে অবগত করলে, ইউপি সদস্য সামাজিক শালিসের আয়োজন করে। সামাজিক শালিসেও যুবকদের খোয়া ফেরতের দন্ডের রায়ের প্রদান করা হয়। বিচারের দিনে বিকেলে ৫ যুবক দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্বাক্ষী ও স্বাক্ষীর সহধর্মিনীকে বেধরক মারপিট করে নগদ টাকা ও স্বর্ন লুট করে নিয়ে যায়। এবিষয়ে স্বাক্ষী থানায় অভিযোগ দিলে, অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি প্রর্দশন করছে যুবকেরা। ঘটনাটি ঘটেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা রতনকান্দি ইউনিয়নের ফুলবয়ড়া গ্রামে।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা রতনকান্দি ইউনিয়নের ফুলবয়ড়া গ্রামে মুনসুর আলী রোড থেকে জুয়েল খানের বাড়ি পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মানের কাজ চলছে। উক্ত কাজের সাব ঠিকাদার আব্দুর রশিদ নির্মান কাজের ব্যবহৃত ইটের খোয়া ফুলবয়ড়া গ্রামের মৃত কুতুব আলী মন্ডল এর পুত্র মো: আকরাম হোসেন (৫২)’র বাড়ির সামনে স্তুপ করে রেখে দেয়। স্তুপকৃত খোয়া হতে বেশ কিছু খোয়া ফুলবয়ড়া গ্রামের মো: জিলিম মন্ডল এর পুত্র মো: বিদ্যুৎ (৩২), মো: শরিফুল ইসলাম (২৮), মো: মোসলেম উদ্দিন (৩৬), মো: মজনু মিয়া (৩৯) ও মৃত সমতুল্লাহ মন্ডল এর পুত্র মো: জিলিম মন্ডল (৬৪) চুরি করে বাড়িতে নিয়ে যায়। খোয়া চুরির বিষয়টি সাব ঠিকাদার আব্দুর রশিদকে অবগত করে। সাব ঠিকাদার আব্দুর রশিদ স্থানীয় ইউপি সদস্য আলীমকে অবগত করে। আলীম মেম্বার এর মধ্যস্থতায় (২৬ আগষ্ট ২০২৫) সকালে সামাজিক বিচারের আয়োজন করা হয়। সামাজিক বিচারে সাব ঠিকাদারকে ১৫ বস্তা খোয়া দেওয়ার রায় প্রদান করা হয়।
এদিকে (২৬ আগষ্ট ২০২৫) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে লাঠি, লোহার রোড, হাসুয়া, ছুড়ি সহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকরাম হোসেন এর বসত বাড়ীর বাহিরে আঙ্গিনায় অনধিকার প্রবেশ করে আকরাম হোসেনকে বেধরক মারপিট করে। আকরাম হোসেন এর পড়নে থাকা টাউজারের পকেটে রাখা ৭০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আকরাম হোসেন এর স্ত্রী ফাহিমা খাতুন আসামীদের অন্যায় কাজে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ফাহিমা খাতুনকে বেধরক মারপিট করে এবং গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, কাজের সাব ঠিকাদার আব্দুর রশিদ খুয়া চুরির বিষয়টি আমাকে অবগত করলে আমি গ্রামের মুরুব্বি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দেই। সাব ঠিকাদার ও জিলিম মন্ডল উভয়ই মিমাংসা মেনে নেয়। পরবর্তীতে চাচা-ভাতিজা জিলিম মন্ডল ও আকরাম হোসেন বাসায় গিয়ে মারামারি করেছে।
এব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, এঘটনায় আকরাম হোসেন থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। তদন্তকাজ চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।






