শাহরিয়ার মোরশেদ :-
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের উনুখাঁ পাগলাপীর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও শিক্ষকদের অপমানের ঘটনায় সেই বিএনপি নেতার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) স্কুল শেষে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উল্লাপাড়ার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা খ. ম. তৌহিদুর রহমান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষক ইসমাঈল হোসেন তালুকদারের সঙ্গে অসদাচরন ও অন্যান্য শিক্ষকদের অপমান করেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিন্টু আহমেদ,খায়রুল ইসলাম,রাশিদুল ইসলাম বক্তব্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার দাবি করে বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রতি এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।
প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন উল্লাপাড়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছে বেশ কয়েকবার।
শুধু মাত্র স্কুল কমিটিতে আসার জন্য, সভাপতির হওয়ার জন্য এবং তার সার্থ হাসিলের জন্য এমন দূর্নীতিবাজ একজন বিতর্কিত নেতা প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে।
তারা এই দূর্নিবাজ চাঁদাবাজ, ও বিতর্কিত নেতা বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি ও দল থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ ও প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে এজন্য এই বিএনপির নেতার বিচার দাবি করেন।
উনুখাঁ পাগলা পীর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাঈল হোসেন তালুকদার বলেন,আমি দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় আমাকে যেভাবে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তা শুধু একজন শিক্ষক নয়, পুরো শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকে অপমান করেছে। শিক্ষক সমাজের প্রতি এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। আমরা চাই বিদ্যালয়ের পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষার উপযোগী থাকে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভয়মুক্তভাবে পড়াশোনা করতে পারে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীরারাই জানান, সরকার পতনের পর মুক্তিযোদ্ধা তৌহিদুর রহমান, চাঁদাবাজি, মাছচুরি, জোরপূর্বক জমি দখল সহ নানান রকম অনিয়ম দূর্নীতির সাথে যুক্ত হয়ে পরেন। দলের নেতাকর্মীরা এসবের প্রতিবাদ করলেই তাকে তার বাহিনী দারা বিভিন্ন ভাবে হয়রানিও করে।
এনিয়ে এর আগে প্রতিবাদ সভাও হয়েছে।
তৌহিদুরের জন্য রামকৃষ্ণপর ইউনিয়ন বিএনপিরসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে অমিল দেখা দিয়েছে।
অন্তরকোন্দল সৃষ্টি কারী এই তৌহিদুর রাজকৃষ্ণপুরের সবকিছু গ্রাস করার জন্য সাধারণ জনগণের উপর অন্যায় অবিচার করছে। এমনকি বাদ জায়নি নিজ দলের নেতাকর্মীরাও।
শুধু মাত্র স্কুল প্রতিষ্ঠান দখলের জন্য প্রতিষ্ঠানের গিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ভাবে শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
শুধুমাত্র ইসমাইল হোসেন এর জন্য উনুখা স্কুল টি উপজেলার শ্রেষ্ঠ স্কুলে পরিনিত হয়েছে।
তিনি বারবারই উপজের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।
এমন একজন গুনি শিক্ষকের সাথে এমন আচরণ মেনে নেওয়ার মত না।
দলের উর্ধতন নেতাদের এখনই তোহিদুরকে থামানো উচিৎ নচেৎ একসময় তৌহিদুরের অত্যাচারেই রামকৃষ্ণপুরে বিএনপি করার মত লোক আর দলে থাকবে না।






