সোহান সেখ :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের পাঁচলিয়া ধোপাকান্দি গ্রামে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন ইটভাটা মালিক হৃদয় ইটভাটার মালিক মো. ফরিদুল ইসলাম, শাপলা ইটভাটার মালিক মো. কাফি ও নয়ন ইটভাটার মালিক মো. আলামিনের বিরুদ্ধে।
জমির প্রকৃত মালিক সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা মো. আকবর আলী গং অভিযোগ করে বলেন, হাটিকুমরুল ট্রাক শ্রমিকদের বিশ্রামাগারের পশ্চিম পাশে তার মালিকানাধীন প্রায় ৫১ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন ফরিদুলসহ তার দুই ভাই।
তিনি জানান, ২০২০ সালে আমরা ওই জায়গার গভীর পুকুরটি ক্রয় করে ভরাট করি। কিন্তু ৫আগস্ট পর হৃদয় ইটভাটার মালিক ফরিদুল, শাপলা ইটভাটার মালিক কাফি ও নয়ন ইটভাটার মালিক আলামিন দখলের উদ্দেশ্যে উক্ত জমিতে লাগানো গাছ কেটে ফেলে এবং সেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার ইট রেখে দেয় । সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পর এ তিন ভাই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মানুষের জমিও দখল করছেন ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কাফি হাটিকুমরুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক।
আকবর আলী আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তাদের ক্রয়কৃত জমি থেকে চারটি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। তিনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমিদস্যু কাফি তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকা জুড়ে তিন ভাইয়ের আধিপত্য এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজনের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।
পাঁচলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, পাঁচলিয়া এলাকার ওই জায়গাটি ছিল নূর হোসেন মোল্লার। তিনি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে আর.এস. রেকর্ড হয়। আকবর সাহেব সেই আর.এস. রেকর্ড অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে জায়গা কিনে খাজনা খারিজ করে সীমানা নির্ধারণ করেন। জায়গাটিতে একটি গভীর পুকুর ছিল। আকবর সাহেব ওই জায়গায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ করে মাটি ভরাট করেন। কিন্তু হঠাৎ করে ফরিদুল গং জায়গাটি দখল করে সেখানে ইট রাখে ও ঘর তোলে। পরে আকবর সাহেব সিরাজগঞ্জ থেকে লোক আনলে তারা বলে, সাত দিনের মধ্যে জায়গা ফাঁকা করে দেব, কিন্তু এখনো করেনি। কেন করেনি, তা আমি জানি না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ফরিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কারও জায়গা দখল করিনি। ওই জায়গা আমার। ১৯৯২ সালে ওরিশিয়ানদের কাছ থেকে ১০৩ শতক জমি আমরা কিনেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এদিকে, জমি দখল নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।






