মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পঞ্চগড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার
স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে কানাডার পার্লামেন্টে ইতিহাস গড়লেন মৌলভীবাজারের কন্যা
তাড়াইলে আট বছরের শিশু রাহুলের ফুটবলে অবাক করা প্রতিভা,সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
শাহজাদপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডক্টর এম এ মুহিত
বগুড়া যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জে গণমানুষের ভালবাসায় সিক্ত হলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সিরাজগঞ্জ-রাজশাহী রুটে জেনিন ও এসআই পরিবহন চলাচল নিয়ে-মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব !
ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
পাবনা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার-১
ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মাদকসেবীকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড সহ অর্থদণ্ড ভ্রাম্যমাণ আদালতের

রাজশাহীতে বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে দোল খাচ্ছে সোনালি আমন ধান,বাম্পার ফলনের আভাস

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির ধাক্কা সামলেও রাজশাহী অঞ্চলে আমন ধানে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিতে অনেক মাঠে চারা নষ্ট হয়ে গেলেও এখন বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে দোল খাচ্ছে সোনালি ধান। রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলন ভালো হবে বলে আশাবাদী কৃষকরা। ধান পাকতে শুরু করায় মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচ খরচ অনেক কম পড়েছে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে বেশি ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও মৌসুমের শেষদিকে বৃষ্টিতে কিছু জমির ধানগাছ নুয়ে পড়েছে, তবুও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ৮৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে চাষ হয়েছিল ৮৪ হাজার ১০৫ হেক্টরে—উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩২৩ মেট্রিক টন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে টানা বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও সামগ্রিক উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়বে না।
তানোর, মোহনপুর, পবা, গোদাগাড়ী, বাগমারা, দুর্গাপুর ও চারঘাট—এসব উপজেলার মাঠজুড়ে এখন ধান কাটার হাওয়া। কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন অনেক ভালো।
গাল্লা গ্রামের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, তিনি ১৩ বিঘায় বিআর-৫১ জাতের ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৫ বিঘার ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২০/২২ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন। গেল বছর সেচে খরচ বেশি হয়েছিল, এবার বৃষ্টি ঠিকমতো হওয়ায় তেমন খরচ হয়নি, বলেন তিনি।
দেবীপুরের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, ২ বিঘায় বিনা-১৭ ধান লাগিয়ে ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। ভালো দাম পেলে এ বছর লাভবান হবেন বলে মনে করছেন তিনি।
গোদাগাড়ীর লুৎফর রহমান বলেন, পানি নিয়ে চিন্তা ছিল। কিন্তু ঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। শেষ দিকে বৃষ্টি কিছুটা চিন্তা বাড়ালেও আশা করছি লাভ হবে।
চারঘাটের কৃষক আবদুর রহিম জানান, কয়েক বছর ফলন কম ছিল। কিন্তু এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান ভালো হয়েছে।
নগরীর পবা উপজেলার বাগধানীর কৃষক মাসুদ বলেন, কিছু জমির ধান নুয়ে পড়ায় ফলন কিছু কম হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ভালোই হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় ক্ষতি হলেও তা সামগ্রিক ফলনে বড় প্রভাব ফেলবে না। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ধান কাটাও শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের ভালো ফলন জেলার খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০