সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক : শুক্রবার) ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) সিরাজগঞ্জ সদর থানার জোড়া সাফল্য : ক্লুলেজ গৃহে ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটনসহ মালামাল উদ্ধার এবং চুরিকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত ২৫/০১/২০২৬ খ্রিঃ রাত ৯.০৮ ঘটিকার সময় সিরাজগঞ্জ সদর থানাধীন সয়দাবাদ ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের জনৈক মোঃ জামিল সরকার এর বসত বাড়ীতে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন ডাকাত দল প্রবেশ করে প্রথমে নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেয় এবং পরে সর্বহারা দলের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে তাদের হাতে থাকা পিস্তল এবং দেশীয় অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ৯৩,০০০/-, ০৬ টি মোবাইল, স্বর্ণ লংকার (১ ভরি ৩ আনা ৪ রতি), ৯ ভরি রুপার তৈরী অলংকার লুণ্ঠন করে চলে যায়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে জনৈক মোঃ জামিল সরকার সিরাজগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে একটি ডাকাতি মামলার এজাহার দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামী গ্রেফতারে সিরাজগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার), মহোদয়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জ সার্কেল মোঃ নাজরান রউফ এর নেতৃত্বে, সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) ইন্দ্রোজিত বর্মন ও অফিসার ফোর্সদের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম গঠন করেন। চৌকস এই টিম তথ্য প্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারণে ডাকাতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। গত ২৯/০১/২০২৬ খ্রি. সিরাজগঞ্জ জেলার সলংগা ও উল্লাপাড়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সহিত জড়িত ০২ জন ডাকাত আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু ১। মোঃ আলিম(ছদ্ম নাম) (১৭) (ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য), সাং-বাসুদেবকোল, থানা- সলংগা, জেলা-সিরাজগঞ্জ ও গ্রেফতারকৃত ২। মোঃ মিলন হোসেন(২০), পিতা-রহিস উদ্দিন মন্ডল, সাং-বাসুদেবকোল, থানা- সলংগা, জেলা- সিরাজগঞ্জদ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের হেফাজত হতে ডাকাতি মামলার আলামত হিসেবে ০২ বাটন মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হলুদ রং এর মিনি পিকআপ যার রেজিঃ নম্বর-ঢাকা মেট্রো ন-১৬-২১৬১ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ঘটনার সহিত জড়িত আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু মিনি পিকআপ চালক এবং সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্য মোঃ আলিম(ছদ্ম নাম) (১৭) এবং হেলপার (ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য) আসামী মোঃ মিলন (২০) দ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এই মামলা ঘটনার সহিত জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে এবং ঘটনার দিন ২৫/০১/২০২৬ খ্রি. রাত্রি অনুমান ২০.০০ ঘটিকার সময় তারা ৭/৮ জন একটি মিনি পিকআপযোগে অনুমান ২১.০০ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলের পাশে পাকা রাস্তার উপর তাদের মিনি পিকআপটি রেখে ডাকাতি করে এবং আধা ঘন্টা ধরে ডাকাতি শেষে পুনরায় মিনি পিকআপযোগে চলে যায় মর্মে স্বীকার করে। তাছাড়াও গত ২৭/০১/২০২৬ খ্রি. এই মামলার ঘটনার সহিত জড়িত ৩ জন আসামীদেরকে বগুড়া জেলার শেরপুর থানা পুলিশ একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে মর্মে জানান। বগুড়া জেলার শেরপুর থানায় গ্রেফতারকৃত ৩ জন আসামীদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ এবং আলামত হিসেবে ২ টি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার সহ ১ জন শিশু এবং ৪ জন আসামীসহ মোট ৫ জন আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ জড়িত আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃত আলিম(ছদ্ম নাম) এবং মিলনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত ২৮/০১/২০২৬ খ্রি. ৫.০৫ ঘটিকার সময় সিরাজগঞ্জ সদর থানাধীন শিয়ালকোল ইউনিয়নের এলজিইডি অফিসের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে জনৈক মোঃ আরিফুল ইসলাম(১৭), পিতা মোঃ আলম, সাং-পাঁচবাড়ীয়, থানা-কামারখন্দ, জেলা-সিরাজগঞ্জ এর একটি নীল রং এর ব্যাটারী চালিত ডয়োডো ইজি বাইক(অটো রিক্সা) যার মূল্য অনুমান ১৯০০০০/- যাত্রীবেশে উঠা অজ্ঞাতনামা আসামীগণ কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে জনৈক মোঃ আরিফুল ইসলাম থানায় বাদী হয়ে একটি চুরি মামলার এজাহার দায়ের করেন।

চুরি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিঃ) মোঃ মিজানুর রহমান ও অফিসার ফোর্সদের সমন্বয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারণে চুরি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। গত ৩০/০১/২০২৬ খ্রি. নাটোর জেলার সিংড়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সহিত জড়িত ০৫ জন যথাক্রমে ১। মোঃ রাশেদুল ইসলাম (৩৫), পিতা মৃত হাসেব আলী ওরফে সাহেব আলী, সাং- আশগ্রাম উত্তর পাড়া, থানা- শেরপুর, জেলা-বগুড়া, ২। মোঃ শাকিব (২৬), পিতা মৃত আমজাদ হোসেন, ৩। মোঃ সাগর আলী ওরফে নুর মোহাম্মদ (৪৫) পিতা মোঃ আঃ রশিদ, উভয় সাং-গুটিয়া মহেষমাড়ি, থানা- সিংড়া, জেলা-নাটোর, ৪। মোঃ ইসলাম (৪৫), পিতা মোঃ আবুল হোসেন, সাং- শিবপুর পূর্বপাড়া, থানা- রায়গঞ্জ, জেলা-সিরাজগঞ্জ, ৫। মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫০), পিতা মৃত চান মোল্লা, সাং- দড়ি মহেষমাড়ি, থানা- সিংড়া, জেলা-নাটোরগণদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের হেফাজত হতে চুরি করা একটি নীল রং এর ব্যাটারী চালিত ডয়োডো ইজি বাইক(অটো রিক্সা) যার মূল্য অনুমান ১,৯০,০০০/- চোরাই আলামত হিসেবে উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা পরস্পর যোগসাজসে বাদীর ইজি বাইকটি ঘটনার দিন ২৮/০১/২০২৬ খ্রি. অনুমান ৫.০৫ ঘটিকার সময় যাত্রী বেশে আসামী রাশেদুল ইসলাম চুরি করে অপর আসামী জহুরুল, শাকিব এবং সাগরদের নিকট দেয়। একপর্যায়ে উক্ত ইজি বাইকটি আসামী আনোয়ারের বাড়ীতে রাখলে থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করত আনোয়ারের বাড়ী হতে চোরাই মাল উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।






