সোহান সেখ:
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় একই পরিবারের ভাই বোন মিলে আরেক ভাইকে সংঘবদ্ধভাবে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তাকে বগুড়ায় ভর্তি করাতে না পেরে সিরাজগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার লতিফপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি ওই গ্রামের ওয়াসেম উদ্দীনের ছেলে মো. ওয়াহিদুজ্জামান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা, বাসা ও মেসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিরোধের জেরে ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে তার বোন মোছা. ওহেদা বেগম ওরফে জেবার মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে তাদের খালাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীর এবং তার ছেলে মো. তাওহীদ এসে যোগ দেন। পরে তাদেরই আরেক ভাই গোলাম আজম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি না বুঝেই বোনের পক্ষ নিয়ে ওয়াহিদুজ্জামানের ওপর হামলা চালান। এ সময় গোলাম আজমের ছেলে মো. জিমও হামলায় অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই মিলে সংঘবদ্ধভাবে নিজের ভাই ওয়াহিদুজ্জামানকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এমনকি তাকে হাসপাতালে নিলে যারা ভর্তি করবে তাদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছা. পিয়ারা খাতুন ও তার দুই সন্তানকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
পরিস্থিতির কারণে প্রথমে বগুড়ায় চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। পরে জীবন বাঁচাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ওয়াহিদুজ্জামানকে সিরাজগঞ্জে এনে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছা. পিয়ারা খাতুন বলেন, আমাদের দুইটি সন্তান আছে। জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এর আগেও আমার স্বামীকে হুমকি দেওয়াসহ অনেক মারধর করেছিল। এবার ভাই ও বোন মিলে তুচ্ছ কারণে তাকে মেরে গুরুতর আহত করেছে। বগুড়ায় আমরা অসহায়, আমাদের কেউ নেই।
তিনি আরও কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার সন্তান দুটিসহ আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমাদের নিঃসন্তান করে দিবে বলেও জানিয়েছে। তাই ভয় পেয়ে ও স্বামীকে বাঁচাতে সিরাজগঞ্জ এনেছি। আর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।
ভুক্তভোগীর ভাইরা সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, আমার ভাইরাকে গুরুতর আহত করে হাসপাতালেও ভর্তি করার সুযোগ দেয়নি। সেখানেও হুমকি দিয়েছে। তাই বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ এনে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।






