সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
তাড়াইলে আট বছরের শিশু রাহুলের ফুটবলে অবাক করা প্রতিভা,সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
শাহজাদপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডক্টর এম এ মুহিত
বগুড়া যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জে গণমানুষের ভালবাসায় সিক্ত হলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সিরাজগঞ্জ-রাজশাহী রুটে জেনিন ও এসআই পরিবহন চলাচল নিয়ে-মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব !
ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
পাবনা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার-১
ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মাদকসেবীকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড সহ অর্থদণ্ড ভ্রাম্যমাণ আদালতের
ঈদুল আযহা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটস,রোভার অঞ্চলের সিনিয়র রোভারমেট ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে ‘মিনি সুন্দরবন’ মাহবুবুল ইসলাম পলাশের

মোঃ হোসেন আলী ( ছোট্ট) :
সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ –আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে আলোচনায় উঠে এসেছে পরিবেশপ্রেমী ও বৃক্ষরোপণ কর্মী মাহবুবুল ইসলাম পলাশের অসাধারণ উদ্যোগ, যিনি দীর্ঘ ২৫ বছরের পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য সবুজ স্বর্গভূমি, যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে। কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত বিরল বৃক্ষ ও নবান্ন কৃষি খামারে রয়েছে ৩৪৫ প্রজাতির বৃক্ষ, যার মধ্যে ৪৫টি মহাবিপন্ন প্রজাতি।ম্যানগ্রোভ ও বিরল বৃক্ষ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা ম্যানগ্রোভ ও বিপন্ন বৃক্ষ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে পলাশ তার বাগানে রোপণ করেছেন সুন্দরী, গরান, কাকড়া, উড়া, বাইনসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বৃক্ষ। বন বিভাগের ঘোষিত ৪৫টি বিরল প্রজাতির মধ্যে ৪৩টির সংরক্ষণ পলাশ তার বাগানেই করেছেন, যা ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।অর্জন ও সম্মাননা পরিবেশ সংরক্ষণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার (১৪২৬ বঙ্গাব্দ)। বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২২ ,এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মাঝে এক নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করেছে।গাছ রোপণের বার্তা পলাশ এখন পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি গাছ রোপণ ও বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। তার বাগান শুধু একটি ‘মিনি সুন্দরবন’ নয়, বরং পরিবেশ সচেতনতার এক শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে তরুণরা শিখছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ।পলাশের স্বপ্ন পলাশ বিশ্বাস করেন, ‘একটি গাছ মানে একটি জীবন’। ম্যানগ্রোভ এবং বনাঞ্চল রক্ষার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবসে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, “প্রতিটি বৃক্ষরোপণ একটি ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রতিশ্রুতি।” মাহবুবুল ইসলাম পলাশের সিরাজগঞ্জের মিনি সুন্দর বনে যে সকল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের গাছ রয়েছে ,যেমন -সুন্দরী বাংলা নাম: সুন্দরী
বৈশিষ্ট্য: সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ। লবণাক্ত পানি সহ্য করতে পারে। কাঠ খুব শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী।গোলপাতা বাংলা নাম: গোলপাতা
বৈশিষ্ট্য: এটি এক ধরনের ম্যানগ্রোভ গাছ, সুন্দরবনে প্রচুর দেখা যায়। এর পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি ও ঝুপড়ি তৈরি করা হয়। কাকড়া বাংলা নাম: কাকড়া বৈশিষ্ট্য: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছ। এর শ্বাসমূল দেখা যায়, যা বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাইন বাংলা নাম: বাইন বৈশিষ্ট্য: ম্যানগ্রোভ গাছ। এর পাতা ও গুঁড়ি নরম, তবে পরিবেশ রক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর।উড়া বাংলা নাম: উড়া স্থানীয় নাম: কখনো “গেছো উড়া” নামেও পরিচিত
বৈশিষ্ট্য: পাতায় বিষাক্ত রস থাকে, চোখে লাগলে সমস্যা হতে পারে। তবে এটি উপকূলীয় পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ।আমডাকুর স্থানীয় নাম: আমডাকুরবৈজ্ঞানিক নাম: আন্তর্জাতিক নাম: বৈশিষ্ট্য: এটি সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ প্রজাতি।এর শ্বাসমূল জলাভূমিতে অক্সিজেন গ্রহণে সহায়তা করে। ফুল দেখতে সুন্দর — সাদা বা হালকা গোলাপি।পাকা ফল দেখতে ছোট আমের মতো, তাই “আমডাকুর” নামে পরিচিত।এটি নদীর পাড়ে ও লোনা জলে জন্মে এবং ভূমিক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সিংড়া গাছ স্থানীয় নাম: সিংড়া।পরিবার: (ডালজাতীয় গাছের পরিবার)
বৈশিষ্ট্য:
এটি একটি ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষ, সাধারণ লবণাক্ত জলাভূমিতে জন্মে। গাছের গুঁড়ি মাঝারি আকারের হয়, ছাল কিছুটা মসৃণ এবং ধুসর পাতাগুলো যৌগিক এবং চকচকে।ফুল ও ফল দেখতে ছোট, তবে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুন্দরবনের অংশ হিসেবে এ গাছটিও ভূমিক্ষয় রোধ এবং প্রাণীকুলের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০