মোঃ হোসেন আলী( ছোট্ট) : সিরাজগঞ্জে বর্ষীয়ান জননেতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান স্মৃতি নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ( ০১ আগস্ট ২০২৫) রাত ৯ টায় সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের দত্তবাড়ি হাজী আহম্মাদ আলিয়া কামিল মাদরাসা, মাঠে যুব সমাজের আয়োজনে মরহুম মির্জা মুরাদুজ্জামান এর ৩০ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতি নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই জমজমাট ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় ‘ব্রাজিল’ বনাম ‘ক্রোয়েশিয়া’ দল। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে গোলের ব্যবধান তৈরি না হওয়ায় টাইব্রেকার মাধ্যমে ‘ক্রোয়েশিয়া’ দল এক-দুই গোলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফুটবল প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করে এই টুর্নামেন্ট। পুরো টুর্নামেন্টে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে, প্রতিটি দলে ৮ জন করে খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ ও বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. নাজমুল হাসান তালুকদার রানা।
প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা ড্যাব এর সভাপতি ডা: এম এ লতিফ।
অনুষ্ঠানটি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. ওয়াহিদুজ্জামান মিনু সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড.নজমুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন ইসলাম খান, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম মিন্টু, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মো. মোয়াজ্জেমুল হক রিপন,জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক মো. জিন্নাহ সরদার, মরহুম মির্জা মুরাদুজ্জামান স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব মো. আখতারুজ্জামান আখতার ফকির এবং সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্না এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিরাজগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক জুবায়ের আল ইসলাম সেজান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত সংসদ সদস্য মির্জা মুরাদুজ্জামানকে স্মরণ করে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তারা বলেন, মির্জা মুরাদুজ্জামান ছিলেন সিরাজগঞ্জ সদর-০২ আসনের সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী, তিনি ছিলেন একজন জনদরদি ও আপাদমস্তক মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক। তিনি রাজনীতি করতেন সমাজকে বদলে দিতে, বিশেষ করে মাদক ও সন্ত্রাস এবং দুর্নীতি থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার মতো ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করতেন। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে এ টুর্নামেন্ট আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন তাঁরই সুযোগ্য পুত্র মির্জা মোস্তফা জামান। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তরুণ প্রজন্ম সুস্থ সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মফস্বল অঞ্চলগুলোতে রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও খেলাধুলার ভূমিকা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয় যখন যুব সমাজকে বিপথে নিতে চাচ্ছে, তখন ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো আয়োজন কেবল বিনোদন নয় এটি একটি সামাজিক আন্দোলনেরই অংশ। মির্জা মুরাদুজ্জামান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট সেই উদাহরণ। যে নেতারা কেবল বক্তৃতায় নয়, মাঠে গিয়ে যুব সমাজের জন্য বাস্তবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাঁদের উত্তরসূরিদের এই ধারাবাহিকতাই জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা ধরে রাখেন। বিশেষ করে দলমত নির্বিশেষে জনপ্রিয় ছিলেন এমন একজন প্রয়াত নেতার স্মরণে আয়োজিত টুর্নামেন্ট যখন সম্প্রীতি, ক্রীড়া ও তরুণ এবং আবাল বৃদ্ধ-বণিতার সম্মিলনে রূপ নেয়, তখন তা শুধু এক ম্যাচ নয় একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা। এই টুর্নামেন্ট শুধু খেলাধুলা নয়, স্মৃতি, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার রক্ষারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য মো. আসলাম উদ্দিন।






