নাবিউর রহমান চয়ন,কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাইদ সরকার নিজেকে নির্দোষ দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের পশ্চিম দুবলাই গ্রামের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
এসময় লিখিত বক্তব্যে আবু সাইদ সরকার বলেন, ‘গত ২ আগস্ট রাতে সংবাদ টিভি নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে আমার নামে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে একটি ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে আমি নাকি কৃষকদের কাছ থেকে সেচ কার্যক্রম চালানোর জন্য চাঁদা আদায় করেছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মূলত আমার বড় ভাই আহসান উল্লাহ চাঁনের একটি গভীর নলকূপ আছে যা দিয়ে স্বল্প মূল্যে কৃষকদের সেচ সেবা দেয়া হয়।
এর আগে আমার বাড় ভাই আহসান উল্লাহ চাঁন বাদী হয়ে দশ জনের নাম উল্লেখ করে গত ২৯ জানুয়ারি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে সিরাজগঞ্জের আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আমরা উভয় পক্ষ স্থানীয়ভাবে বসে সেই মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আপোষ মীমাংসা গত ১২ জুলাই কাজীপুর থানায় জমা দিয়েছি৷ প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করেছে আমরা নাকি মামলা নিষ্পত্তির জন্য চার লক্ষ টাকা নিয়েছি। আমাকে হয়রানি ও আমার মানসম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছি। আমি কোন দিন কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমার নামে প্রকাশিত ওই বানোয়াট সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এদিকে আহসান উল্লাহ চাঁনের করা মামলার আসামী সাদি (৪০) বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষ বসে মামলা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মীমাংসা হয়েছি। এখানে কোন প্রকার টাকা পয়সা লেন দেন হয়নি। আবু সাইদের বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা মিথ্যা। মামলার আরেক আসামি জিয়া (৩৫) বলেন, ‘আমার ভাই শামীম। তিনি দুইবার ব্রেইন স্ট্রোক করেছিলেন। তিনি সব কিছু ভুলে যান। সকালে এক কথা বলেন বিকেলে আরেক কথা বলেন। তিনি মানুষিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। জিয়া বলেন, ‘আসলে মামলা তোলার জন্য কোন প্রকার অর্থ লেনদেন হয় নাই। আমরা উভয় পক্ষ বসে মীমাংসা হয়ে সালিশনামা থানায় জমা দিয়েছি।’
সালিশে উপস্থিত শিক্ষক শাহআলী বলেন, ‘আমি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। ওখানে দুই পক্ষের সম্মতিতেই মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে মীমাংসা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলমের মোবাইল নম্বরে কর করলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।






