শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের
উল্লাপাড়ায় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি
ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ,বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচির উদ্বোধন
সিরাজগঞ্জে মুসল্লিদের মোটরসাইকেল নিরাপত্তায় ফ্রী টোকেন গ্যারেজ করলেন হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার
প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলের দুর্দান্ত জয়
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৩৫
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ১৫ প্রান্তিক সদস্যের মাঝে ৩০০ পিস হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
বড়ালব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশনে ট্রেনের আসন ও যাত্রাবিরতি বৃদ্ধির দাবি এমপি রুমার
সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ,প্রতারণা মামলায় মিমুল গ্রেফতার

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

 

সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে পাঁচ কর্ম দিবসে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের এই রায় ঘোষণা হলো।

রোববার (৭ জুন ২০২৬) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। 

মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছেন—যা রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এই অপরাধে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, স্বপ্না খাতুন তার স্বামী সোহেল রানার এই নৃশংস অপরাধের সহযোগী ছিলেন। ঘটনার সময় স্বামীকে থামানোর কোনো চেষ্টা না করে, উল্টো অপরাধ আড়াল করতে এবং স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছেন। সোহেলকে পালিয়ে যেতে ও মরদেহ গুম চেষ্টায় স্বপ্না সহযোগিতা করেছেন, এটা প্রামাণিত। সোহেল-স্বপ্নার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আইন অনুযায়ী, অপরাধে এই ধরনের সহায়তা ও অংশীদারিত্বের কারণে তারা উভয়েই সমভাবে অপরাধী এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

আদালত বলেন, এটি একটি সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ। এই ঘৃণ্য অপরাধের যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। এমন ব্যক্তিদের হাত থেকে শিশুসহ কেউ  নিরাপদ নয়।

এদিকে সকাল থেকেই এই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে দুই আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টার কিছু পর তাদের এজলাসে তোলা হয়।

গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির বাবা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষিত হলো।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০