ফটোকার্ড
মাসুদ রানা রাব্বানী রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কেজি হেরোইনসহ মোঃ ইকবাল হাসান (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোদাগাড়ী মডেল থানার দেওপাড়া ইউনিয়নের সারইল এলাকায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়| জব্দকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা কার্যালয়ের একটি দল সারইল এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী কর্ণফুলি (মহানন্দা স্পেশাল) বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসের পেছনের সারির মাঝের সিটে বসে থাকা যাত্রী ইকবাল হাসানের সঙ্গে থাকা একটি অ্যাশ রঙের স্কুলব্যাগ থেকে কাপড়ে মোড়ানো ও স্কচটেপে প্যাঁচানো ১৫টি স্বচ্ছ পলিথিন প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০০ গ্রাম করে মোট ১ দশমিক ৫ কেজি বাদামি রঙের গুঁড়া হেরোইন পাওয়া যায়।
গ্রেফতার ইকবাল হাসান রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার রামজীবনপুর গ্রামের মোঃ সাইদুল ইসলাম ও হাসনা হেনা দম্পতির ছেলে।
অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত একটি Samsung Galaxy A16 ১৬ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ক্রমিক ৮(গ) ও ৪১ ধারায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের লক্ষ্য শুধু চালান বহনকারীকে গ্রেফতার করা নয়। জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হেরোইন চালানের নেপথ্যে থাকা মূল হোতা, অর্থদাতা ও সরবরাহ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ কারণেই মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে।
এদিকে, বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় গোদাগাড়ী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালান সক্রিয় থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু বহনকারী বা মাঠপর্যায়ের সদস্যরাই গ্রেপ্তার হন; মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সচেতন মহলের দাবি, মাদক নির্মূলে শুধু বাহক গ্রেফতার করলেই হবে না; পুরো নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং চক্রের মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, মাদকের মূল শেকড় উপড়ে ফেলতে পারলেই হেরোইনসহ অন্যান্য মাদকের চোরাচালান কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি থেকে রক্ষা করা যাবে।




