ফটোকার্ড
বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসন। সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ২৩ জুন, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই সরকারি সম্পদ উদ্ধার করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার( ২৩ জুন ২০২৬) দুপুরের দিকে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর পৌর সার্ভেয়ার, পৌর ভূমি কর্মকর্তা এবং ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় যৌথ তদন্ত ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সরকারি সম্পদ দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ: স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানাযায়, ভাঙ্গুড়ার শরৎনগর বাজার সংলগ্ন জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর একটি অত্যন্ত মূল্যবান সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের নজরদারিতে ছিল। সম্প্রতি মোস্তফা নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ডাক বাংলোর ওই সরকারি জমিটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজের দাবি করে দখল করে নেন। শুধু তাই নয়, তিনি প্রশাসনের অনুমতি ব্যতিরেকেই সেখানে পাকা স্থাপনা ও বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে আরসিসি (RCC) পিলার ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন।
সরকারি জায়গা এভাবে এক রাতের ব্যবধানে দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান এর নজরে আনা হলে তিনি বিষয়টি কে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সত্যতা যাচাই ও উচ্ছেদ অ্যাকশন: অভিযানের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার ২৩ জুন দুপুরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান পুলিশ ফোর্স ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ডাক বাংলো এলাকায় উপস্থিত হন। সেখানে সরকারি ও পৌরসভার মানচিত্র এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করার জন্য পৌর সার্ভেয়ার ও পৌর ভূমি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা দীর্ঘক্ষণ পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের পর নিশ্চিত হন যে, ব্যবসায়ী মোস্তফা যে স্থানে পিলার স্থাপন করে নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন, সেটি সম্পূর্ণভাবে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর তথা সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা।
সরকারি জমি দখলের এই অকাট্য সত্যতা পাওয়ার সাথে সাথেই অ্যাকশনে যান সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে দখলকৃত জমিতে সদ্য নির্মাণাধীন অবৈধ আরসিসি পিলারগুলো হাতুড়ি ও শ্রমিক দিয়ে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পর মুহূর্তের মধ্যেই অবৈধভাবে নির্মিত সমস্ত পিলার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সরকারি জমিটি সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
মুচলেকা গ্রহণ ও কঠোর হুঁশিয়ারি: অভিযান চলাকালে অবৈধ দখলদার ব্যবসায়ী মোস্তফা নিজের ভুল স্বীকার করেন। পরবর্তীতে সরকারি আইন অমান্য করা এবং সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে ভবিষ্যতে কখনো এই ধরণের অবৈধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না—এই মর্মে তার কাছ থেকে একটি লিখিত শর্তযুক্ত মুচলেকা (বন্ড) নেওয়া হয়। একই সাথে সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, পুনরায় যদি সরকারি সম্পত্তির এক ইঞ্চি জমিও দখলের চেষ্টা করা হয়, তবে তাকে সরাসরি জেল ও অনেক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
জনমনে স্বস্তি ও সচেতন মহলের সাধুবাদ: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এমন ঝটিকা তৎপরতা ও কঠোর ভূমিকা কে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “ভাঙ্গুড়ায় প্রভাবশালীরা যেভাবে সরকারি জমি গ্রাস করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে, সেখানে এসিল্যান্ড স্যারের এই তাৎক্ষণিক অ্যাকশন প্রশংসার দাবিদার। এই মূল্যবান ডাক বাংলোর জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষা পেল।” তারা এই জমিটি যেন পুনরায় কেউ দখল করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের ধারাবাহিক ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখার জোর দাবি জানান।
সরকারি জমি দখলের কোনো সুযোগ নেই: এসিল্যান্ড এই সফল উচ্ছেদ অভিযান ও সরকারি জমি উদ্ধার প্রসঙ্গে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “আইন অনুযায়ী সরকারি জমি বা সম্পত্তি ব্যক্তি স্বার্থে অবৈধভাবে দখলের কোনো সুযোগ বা অবকাশ নেই। আমরা সাধারণ মানুষের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি এবং সরকারি সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে এনেছি। ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার যেখানেই সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করা হবে, সেখানেই আমাদের এই ধরণের উচ্ছেদ অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।কোন দখলদারকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত জমিতে লাল পতাকা ও সরকারি সম্পত্তি নির্দেশক সাইন বোর্ড টানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় ভূমি অফিস।




