সেলিম রেজা, রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ফুলজোড় নদ দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পরিবেশবাদী কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে আদালত তাঁদের জামিন দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামের তৌহিদুর রহমান ওরফে বাবু (৪৫) ও সীমাবাড়ি বাজার এলাকার আলী রেজা বিশ্বাস (৫০)।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়র শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাঁদের বগুড়া আদালতে পাঠানো হলে বিকেলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিকিউরিটি ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা কোম্পানির সামনে এসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তিন দিনের মধ্যে তা না দিলে হুমকি দেন।
তবে মামলার আসামি ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মামলার এক আসামি সাব্বির আহমেদ বলেন, ফুলজোড় নদীর দূষণ, মাছসহ জলজ প্রাণীর মৃত্যু, জেলে ও মাছ চাষীদের হাহাকার এবং নদীর পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা কৃষকদের হাহাকার দেখে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলাম। আমরা চান্দাইকোনায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলাম এবং পরবর্তীতে বগুড়ার শেরপুরে ঐ কেমিক্যাল কারখানাগুলোর সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করি। পরবর্তীতে আমি, ছাত্রনেতা ফয়সাল বিশ্বাস, কৃষকদলের নেতা রুবেল হোসেন সহ ৬ জনের নামে বগুড়ার শেরপুর-ধুনটের এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের এস আর কেমিক্যাল মামলে করে। উক্ত মামলায় পুলিশ ইতোমধ্যে তৌহিদ হোসেন বাবু এবং আলী রেজা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। আমি এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারকে বলবো নদী দূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সিরাজ এমপিকে বাধ্য করুন।
অন্য আরেক আসামি ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, ফুলজোড় নদ দূষণের প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেছিলেন। নদীর পানি দূষিত হয়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে—এই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতেই তাঁরা আন্দোলনে অংশ নেন। কিন্তু সেই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীন জীবনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক সরকার বলেন, মামলার তারিখে তিনি একটি আত্মীয়ের জানাজায় ছিলেন। তবুও তাকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলী রেজা বলেন, তাঁদের কারখানার বর্জ্য পরিশোধনাগারের মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগ সঠিক নয়।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






