ফটোকার্ড
মোঃ নজরুল ইসলাম :
সিরাজগঞ্জ শহরের ২ নম্বর খলিফাপট্টিতে অবস্থিত নান্না বিরিয়ানি হাউজে উদ্বোধন উপলক্ষে ঘোষিত ২৫ শতাংশ মূল্যছাড় (ডিসকাউন্ট) অফারের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক গ্রাহক।
প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী উদ্বোধনের দিন থেকে টানা তিন দিন সব খাবারে ২৫ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার (১৭জুলাই) ছিল ওই অফারের শেষ দিন। তবে প্রথম দিন থেকেই ঘোষিত ডিসকাউন্টের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। কেউ প্রতিবাদ করলে সেটিকে ‘গণনায় ভুল’ বলে দাবি করে অতিরিক্ত নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (১৭জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, দোকানের মূল্যতালিকা অনুযায়ী হাফ প্লেট খাসির কাচ্চি বাসমতীর দাম ২৫০ টাকা। ২৫ শতাংশ ছাড়ে এর মূল্য হওয়ার কথা ১৮৮ টাকা। কিন্তু গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছিল ২০০ টাকা, অর্থাৎ ঘোষিত অফার মূল্যের তুলনায় ১২ টাকা বেশি।
এ বিষয়ে কর্মচারীদের কাছে খাবারের বিল বা ভাউচার চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি ‘গণনার ভুল’ হয়েছে বলে দাবি করে অতিরিক্ত নেওয়া টাকা গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনার দুই মিনিট আগে আরেকজন গ্রাহক হাফ প্লেট খাসির কাচ্চি বাসমতীর পাঁচটি প্যাকেট কিনে ১ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে তাকে মাত্র ১০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ওই গ্রাহকের দাবি, হিসাব অনুযায়ী তার আরও ৬০ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা ছিল।
গ্রাহক আব্দুল আলিম বলেন, আমার আরও ৬০ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা মাত্র ১০ টাকা দিয়েছে। আবার চাইতে গেলে নিজেকে ছোট মনে হবে ভেবে আর কিছু বলিনি। আমি বিল বা ভাউচারও চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা দিতে পারেনি।
এদিকে পথচারী ফিরোজ হাসান বলেন, খাবারের তালিকায় খাসির কথা উল্লেথ থাকলেও মাংসে গন্ধ রয়েছে। বকনা বা মাংসে ভেজাল আছে কিনা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দেখভাল করা উচিত।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার না করে ‘হিসাবের ভুল’ হয়েছে বলে দাবি করেন।
নান্না বিরিয়ানি হাউজের স্বত্তাধিকারী সায়মন আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত টাকা গ্রহন করছি তবে চাইলে আবার ফেরত দিয়ে থাকি। তবে গণনায় কমবেশি হতেই পারে।
ঘটনাটি নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, অফারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিল-ভাউচার না দেওয়া ভোক্তা অধিকার পরিপন্থী। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।




