,
সর্বশেষ
ফরিদপুরে ৬ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
“যদি লক্ষ থাকে অটুট,দেখা হবে বিজয়ে”- সিরাজগঞ্জে মেয়র হিসেবে সাইদুর রহমান বাচ্চুকে দেখতে চান সমর্থকরা
সিরাজগঞ্জে চিপস ও দই কারখানায় জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান: ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি” কর্মসূচিতে জ্ঞানদায়িনী উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ
উল্লাপাড়া সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার রাজত্ব; অভিযোগের তীর আরএমও ডা: সামিউল ইসলাম এর দিকে
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেফতার ১৯
ভাঙ্গুড়ায় মাদকসেবনের দায়ে দুই যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড
মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে দেলদুয়ারে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন

উল্লাপাড়া সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার রাজত্ব; অভিযোগের তীর আরএমও ডা: সামিউল ইসলাম এর দিকে

ফটোকার্ড

মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট : বাইরে থেকে নতুন রঙের প্রলেপে চকচকে দেখালেও ভেতরে যেন এক ভিন্ন লঙ্কাকাণ্ড! অনিয়ম, অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং স্থানীয়তার প্রভাব খাটিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কাওয়াক এলাকায় অবস্থিত ‘উল্লাপাড়া ৩০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল’-এর কার্যক্রম। হাসপাতালটির চরম অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকদের অনীহা এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (রিপ্রেজেন্টেটিভ) দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা এখানে পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।রোগী ফেলে রিপ্রেজেন্টেটিভদের তোষামোদে ব্যস্ত চিকিৎসকেরা
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের কথা শোনার সময় চিকিৎসকদের না হলেও, ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের দেওয়া স্যাম্পল ওষুধ এবং উপহার সামগ্রী গ্রহণ করতে তারা অত্যন্ত ব্যস্ত থাকেন। ডিউটি চলাকালীন সময়ে মুমূর্ষু রোগীকে দাঁড় করিয়ে রেখে চিকিৎসকদের রিপ্রেজেন্টেটিভদের সাথে কথা বলার এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে গণমাধ্যম কর্মীদের। যদিও হাসপাতালের বাইরের দেওয়ালে ‘রিপ্রেজেন্টেটিভদের হাসপাতালের ভেতর প্রবেশ নিষেধ’ সংক্রান্ত নির্দেশনামূলক নোটিশ টানানো আছে, কিন্তু সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে প্রতিদিন চিকিৎসকদের ডিউটি চলাকালীন সময়েই রিপ্রেজেন্টেটিভরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান। ৩০ শয্যার এই ছোট্ট হাসপাতালের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন রিপ্রেজেন্টেটিভের সক্রিয় অবস্থান দেখা গেছে। হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে রোগীর চেয়েও এদের আনাগোনা বেশি। গেটের সামনে রিপ্রেজেন্টেটিভদের বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকার কারণে জরুরি রোগীরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে ও হাসপাতাল থেকে বের হতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।ওষুধের কৃত্রিম সংকট :
সরকার থেকে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন ও ইনজেকশন বরাদ্দ থাকলেও রোগীদের তা সঠিক নিয়মে সরবরাহ করা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, রিপ্রেজেন্টেটিভদের দেওয়া লিস্ট মোতাবেক রোগীদের হাতে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের আশেপাশের এলাকা থেকে ভ্যানে করে নিয়ে এসে হাসপাতালের মাঠ জুড়ে ধান, খড় ও ভুট্টা শুকানো হচ্ছে এবং গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণক্ষেত্রের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগী স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ
হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন,সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে এবং সুচিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও এখানে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডাক্তাররা তাদের ডিউটি ফেলে নিজস্ব রুমে বসে ব্যক্তিগত কাজে বা ফোনে কথা বলে সময় পার করেন। অধিকাংশ সময় চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে কম্পাউন্ডার বা ওয়ার্ড বয়রা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।”ইকবাল হোসেন আরও জানান, চিকিৎসকদের অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা উল্টো স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। ডিউটির সময় শেষ হওয়ার অজুহাতে মুমূর্ষু রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন লেখার সাথে সাথেই রিপ্রেজেন্টেটিভরা রোগীদের হাত থেকে তা কেড়ে নিয়ে ছবি তোলে। এর ফলে রোগীরা সময়মতো ওষুধ নিতে পারেন না এবং হাসপাতালে এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বার্থে তিনি এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের অভিযোগ: বিপাকে ১১ বছরের শিশুহাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীদের ঢালাওভাবে এবং প্রয়োজন ছাড়াই অতিরিক্ত ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুল ও অতিরিক্ত মাত্রার ওষুধ সেবনের ফলে এক ১১ বছর বয়সী শিশুর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর পিতা আব্দুল মালেক। তিনি জানান, আনুমানিক ১০-১১ মাস আগে তার ১১ বছর বয়সী ছেলে হঠাৎ বমি করতে শুরু করলে তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্মরত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রনি শিশুটিকে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দেন। আব্দুল মালেক বলেন, ডাক্তারের দেওয়া সবগুলো ওষুধই ছিল অ্যান্টিবায়োটিক। এই ওষুধগুলো খাওয়ানোর পর আমার ছেলের পুরো শরীরে তীব্র অ্যালার্জি দেখা দেয়, অর্থাৎ ওষুধের রিঅ্যাকশন হয়। বিষয়টি নিয়ে ডা. রনিকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও স্বীকার করেন যে এটি ওষুধের রিঅ্যাকশন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, রিঅ্যাকশন হওয়ার পরেও চিকিৎসকের পক্ষ থেকে আবারও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়। এতে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে এবং এক পর্যায়ে চোখ উল্টে যাওয়ার মতো আশঙ্কাজনক অবস্থা তৈরি হয়। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে পিতা তাকে সিরাজগঞ্জের ‘আভিসিনা’ হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং সেখানে এক সপ্তাহ নিবিড় চিকিৎসার পর শিশুটি সুস্থ হয়।ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সামিউল ইসলাম (রনি) এর বিরুদ্ধে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় সব রোগীকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে অনৈতিক লিয়াজোঁ বা কমিশনের বিনিময়ে ঢালাওভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওষুধ থাকার পরও রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসকদের অসদাচরণ
হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ থাকার পরও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ তুলেছেন উল্লাপাড়ার পশ্চিমপাড়ার গ্যাস লাইনের সামনের বাসিন্দা এক ভুক্তভোগী।তিনি তার বাবাকে দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। ভর্তির পর চিকিৎসকরা তিন দিন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দেন এবং জানান যে ওষুধটি হাসপাতালে নেই। পরবর্তীতে প্রায় দুই দিন ওষুধ বন্ধ থাকার পর রোগীর স্বজনরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি করেন। এর ফলে হাসপাতাল থেকে পুনরায় সেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধটি রোগীকে দেওয়া শুরু হয় এবং আরও চার দিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পর রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী প্রশ্ন তোলেন, যদি ওষুধটি হাসপাতালেই না থাকবে, তবে চাপ সৃষ্টির পর কীভাবে সেই একই ওষুধ পুনরায় দেওয়া সম্ভব হলো?স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের বড় ডাক্তার ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মধ্যে সেবামূলক মানসিকতার চরম অভাব রয়েছে এবং চিকিৎসকদের আচরণ সন্তোষজনক নয়। ওয়ার্ড বয় শহিদুলের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ: হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের ‘ওয়ার্ড বয়’ শহিদুলের বিরুদ্ধে রোগী এবং স্বজনদের সাথে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে সামনে অবস্থিত অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রো স্ট্যান্ডের রেন্ট-এ-কার এর এক ভুক্তভোগী চালক জানান, জরুরি অবস্থায় কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ওয়ার্ড বা সঠিক স্থান চিনতে না পেরে শহিদুলের কাছে সাহায্য চাইলে তিনি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন।ভুক্তভোগী চালকসহ অন্যান্য চালকগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:”আমাদের একটা রোগী যদি আসে, তাকে নিয়ে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড বয় শহিদুল ওনাকে যদি বলা যায় আমরা এখানে চিনতেছি না, এই রোগীটা কোন জায়গায় নিয়ে যাবো? উনি বলে যে, আপনি খুঁজে নেন গা। এখানে ডাক্তার নাই বাইরের ক্লিনিকে নিয়ে দেখাতে পারেন না—এরকম কথা বলে। প্রত্যেকটা লোককেই মেজাজ দেখিয়ে এরকম কথা বলে। উনার ব্যবহার এত খারাপ!”অবশ্য অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতালের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মামুন স্যারের প্রশংসা করে ভুক্তভোগীরা বলেন, মামুন স্যারের মতো ডেডিকেটেড কর্মকর্তা ও তাঁর প্রশাসনিক তদারকির কারণেই হাসপাতালটি এখনো কোনোমতে সেবা দিয়ে যাচ্ছে, নাহলে শহিদুলদের মতো কর্মচারীদের খামখেয়ালিতে এটি এতদিনে অচল হয়ে পড়তো। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।বিষ পানের রোগীকে স্টমাক ওয়াশ করতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়:সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন উল্লাপাড়ার কোনাবাড়ি এলাকার এক ভুক্তভোগী নারী, যার গাড়িচালক স্বামী বিষ পান করায় বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, হাসপাতালে তার স্বামীর দেহ থেকে বিষ বের করে দেওয়ার জন্য (স্টোমাক ওয়াশ) বিভিন্ন অজুহাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম রয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে তিনি জানান, সকালে চিকিৎসক এসে রোগীকে দেখলেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে দু-একটি ওষুধ ছাড়া তেমন কোনো প্রয়োজনীয় ওষুধ বা স্যালাইন সরবরাহ করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বাইরের দোকান থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কিনে আনতে হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজন রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলা এবং ঘনঘন ওষুধের ডোজ পরিবর্তনের বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, এবং হাসপাতালে আগত ও আশেপাশের স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সকল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া সদর ৩০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) এর ডা: সামিউল ইসলাম রনি বলেন, “একজন মানুষ সবার মনে জায়গা দখল করতে পারবে না, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের এখানে যে রোগীরা ভর্তি হয়, তারা ইমার্জেন্সির মাধ্যমে আসে। জরুরি বিভাগে ভর্তির সময় এক ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমরা যখন রাউন্ডে যাই এবং রোগীদের হিস্ট্রি বা শারীরিক অবস্থা বিস্তারিত শুনি, তখন প্রয়োজন মনে হলে ওষুধের পরিবর্তন করা হয়। এটি চিকিৎসারই একটি অংশ।”ছুটি এবং ওষুধের ডোজ কমানোর অভিযোগের জবাবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “অনেক সময় স্থানীয় রোগীরা ব্যথা কমানোর পর খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যেতে চান। আমরা তাদের আরও কিছুদিন থাকার অনুরোধ করলেও, তারা ঘরের কাজ, গবাদি পশু বা লোকবলের অভাবের মতো নানা সমস্যার কথা বলে চলে যেতে বাধ্য করেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় আমরা ‘সুইচ ওভার থেরাপি’র (Switch-over therapy) মাধ্যমে ইনজেকশনের পরিবর্তে মুখে খাওয়ার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকি। রোগীরা হয়তো ভাবেন ইনজেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দুইটির কার্যক্ষমতা একই। শুধুমাত্র একটি শিরায় দেওয়া হয় এবং অন্যটি মুখে খেতে হয়।”ওষুধের অপ্রতুলতার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকারি সাপ্লাই শেষ হয়ে গেলে আমরা রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে পারি কি না জিজ্ঞেস করি। যেহেতু আমাদের এখানে বেশিরভাগই দরিদ্র রোগী আসেন এবং তারা কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তখন বাধ্য হয়ে আমরা হাসপাতালের বিদ্যমান সাপ্লাই থেকেই বিকল্প বা সমমানের মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাই।”হাসপাতালে ভর্তি বিষ পান করা রোগীর স্টোমাক ওয়াশ করা বাবদ হাসপাতালের নির্ধারিত ফ্রি এর বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন : এরকমতো হওয়ার কথা না। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা খুশি হয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ওদেরকে বকশিশ দিয়ে থাকে। হাসপাতালের ভিতরে ও বাহিরে বিপুল সংখ্যক রিপেনসিটিভদের ছড়াছড়ি এবং রোগীকে দাঁড় করিয়ে রেখে রিপেনজিটিভদের দেওয়া স্যাম্পল এবং উপহার সামগ্রী নিয়ে ডাক্তারদের সময় কাটানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন সপ্তাহে একদিন ওদের হাসপাতালে এক ঘন্টার মত সময় দেওয়া আছে এছাড়াও আমরা হাসপাতালের প্রবেশ মুখে ডিউটি চলাকালীন সময়ে তাদের প্রবেশ নিষেধ নীতিমালা দিয়ে বিজ্ঞাপন লাগিয়ে দিয়েছি।সবশেষে তিনি বলেন, “চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আল্লাহ আমাদের যতটুকু জ্ঞান দিয়েছেন, আমরা তার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করি যেন একজন রোগী যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারেন।”হাসপাতালে ভর্তি রোগী, রোগীর আত্মীয়-স্বজন, অ্যাম্বুলেন্স রেন্ট এ কারের ড্রাইভারগণ, এলাকাবাসী সহ সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি:উল্লাপাড়া সদর ৩০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের এই সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্য, কৃত্রিম ওষুধ সংকট, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ওয়ার্ড বয়দের দুর্ব্যবহার এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার বিষয়ে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ