আলী আশরাফ,সিরাজগঞ্জ :
অসহায় প্রতিবন্ধির নিকট টাকা নিয়ে জমি দেওয়ার কথা বলে পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় দেয় মোহাম্মদ বীন আসির (জীম) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। ভূক্তভোগী প্রতিবন্ধির পাওনা টাকা পরিশোধ না করে সিরাজগঞ্জ সদর থানার পুলিশ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন ও বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার প্রতিবাদে প্রতিবন্ধির পক্ষে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করল বাগবাটী ইউনিয়নের পেঁচিবাড়ী গ্রামবাসী।
(২৫ মার্চ ২০২৬), বুধবার সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটী ইউনিয়নের ছোনগাছা-ইছামতি রোডের পেঁচিবাড়িতে মানববন্ধন করে গ্রামবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার ডাকের পাড়া গ্রামের মৃত শামছুল হক এর পুত্র প্রতিবন্ধি মো: মহসিন সেখ (৩৯) এর সাথে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটী ইউনিয়নের পেঁচিবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল আল আসির এর পুত্র মোহাম্মদ বীন আসির (জীম) একই বিল্ডিংয়ে চাকুরি করার সুবাধে বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। প্রতিবন্ধি মো: মহসিন সেখ এর অর্জিত, যাকাতের উপার্জিত ও স্ত্রীর গার্মেন্টস থেকে উপার্জিত টাকা সুকৌশলে হাতিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন কুটকৌশল করতে থাকে মোহাম্মদ বীন আসির (জীম)। এরই এক পর্যায়ে প্রতিবন্ধির নিকট জমি বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় মোহাম্মদ বীন আসির (জীম)। পাওনা টাকা পরিশোধ করতে বারবার তাগাদা দিলে প্রতিবন্ধি মহসিনকে বাগবাটির পেঁচিবাড়িতে নিয়ে আসে। পেঁচিবাড়িতে মোহাম্মদ বীন আসির (জীম) এর একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে আশ্রয় দেয় প্রতিবন্ধি মহসিনকে।
বক্তারা আরো বলেন, জমি লিখে বা পাওনা টাকা পরিশোধ করতে বারবার তাগিদ দিলে সিরাজগঞ্জ সদর থানার কর্তব্যরত বারিক দারোগা ও ঢাকা থেকে আগত কিছু গুন্ডা বাহিনী দিয়ে প্রতিবন্ধি মহসিনকে বেধরক মারপিট ও অমানবিক নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে গ্রামবাসী বিষয়টি জানতে পারে। তাৎক্ষনিক গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে পুলিশ বারিক দারোগার হাত থেকে প্রতিবন্ধি মহসিনকে রক্ষা করে। প্রতিবন্ধি মহসিনকে হ্যান্ডকাপ পড়ালেও গ্রামবাসীর তোপের মুখে পুলিশ বারিক দারোগা চলে যেতে বাধ্য হয়।
বক্তারা আরোও বলেন, আমরা পেঁচিবাড়ি গ্রামবাসী। আমাদের গ্রামের সন্তান মোহাম্মদ বীন আসির (জীম)। জীম একজন মাদক ব্যবসায়ী।নআমরা গ্রামবাসী আজ কেন মোহাম্মদ বীন আসির (জীম) পক্ষে না দাড়িয়ে গাইবান্ধা জেলার প্রতিবন্ধি মহসিন এর পাশে দাড়িয়েছি। একজন প্রতিবন্ধির ন্যায্য অধিকার ফিরে দিতে মানববন্ধনে এসে দাড়িয়েছি। আমরা গ্রামবাসী প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি যে, দ্রুত প্রতিবন্ধি মহসিনের পাওনা টাকা ফেরত দিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধি মহসিন বলেন, আমার তিন কন্যা। ঢাকায় একটি বিল্ডিংয়ে আমি লিফটে চাকুরি করার সুবাধে জীমের সাথে পরিচিত হই। আমার কোন বাড়ি ঘর না থাকার কারণে আমার অর্জিত টাকা, আমাকে দেওয়া মানুষের যাকাতের টাকা, আমার স্ত্রীর গার্মেন্টস থেকে অর্জিত টাকা মোহাম্মদ বীন আসির (জীম) সিরাজগঞ্জে তাদের জমি লিখে দিবে বলে ৩ লাখ ৩০ হাজার বিভিন্ন সময়ে গ্রহন করে। আমি আমার জমি চাই না। আমি আমার পাওনা টাকা না দেওয়া পর্যন্ত জীমের পরিত্যাক্ত বাড়ি ছেড়ে চলে যাব না। আপনারা সকলেই আমার পাওয়া টাকা পেতে সহযোগিতা করবেন। পাওনা টাকা পেলেই আমি চলে যাবো।
মানববন্ধনে পেঁচিবাড়ি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, বাবলু মল্লিক সহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে পেঁচিবাড়ি গ্রামে সর্বস্তরের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, মুরুব্বি সহ প্রতিবন্ধি মহসিন ও তার স্ত্রী মোমিনা খাতুন ও প্রতিবন্ধি মহসিন এর কন্যাদ্বয় মাহি, মিলি ও মায়া উপস্থিত ছিলেন।






