,
সর্বশেষ
সিরাজগঞ্জে হোসেনপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ চায় এলাকাবাসী
ভাঙ্গুড়ায় উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ঘাটাইলে ব্রাক্ষণ শাসন মহিলা ডিগ্রি কলেজে ভর্তি বৃদ্ধি ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে আলোচনা সভা
সিরাজগঞ্জ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে আনারস প্রতীকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আল আমিন শেখ
সিরাজগঞ্জে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার বদলি
তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে বাইসাইকেল,সেলাই মেশিন ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ
সিংড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে বিয়াশ-রাতাল সড়কে বৃক্ষরোপণ
সিরাজগঞ্জে ত্রুটিপূর্ণ ড্রেন নির্মাণে সামান্য বৃষ্টিতেই ধানবান্ধি মহল্লায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
ভাঙ্গুড়ায় মোবাইল কোর্টে ৬৫ টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ ও ধ্বংস
তাড়াশে ভিলেজ ভিশন বাংলাদেশ এর সহযোগীতায় ১০০টি চারা গাছ বিতরণ

শরতের আগেই চলনবিলে শাপলার সমারোহ,প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলেছে জীবিকার আশীর্বাদ

ফটোকার্ড

শামীম রেজা,সিংড়া(নাটোর) প্রতিনিধি :
দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলে এবার শরৎ আসার আগেই ফুটেছে লাল-সাদা শাপলার মনোমুগ্ধকর সমারোহ। সাধারণত শরৎ মৌসুমে শাপলার সৌন্দর্যে মুখর হয়ে ওঠে এই বিল, তবে এবার শ্রাবণের শুরুতেই বিলজুড়ে শাপলার আগাম প্রস্ফুটন প্রকৃতিপ্রেমীদের যেমন মুগ্ধ করছে, তেমনি কর্মহীন মানুষের জীবিকায় এনে দিয়েছে নতুন আশার আলো।
বর্ষাকালে চলনবিল এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। কিন্তু এ বছর আগাম শাপলা ফুটে ওঠায় তারা ভোরবেলা ডিঙি নৌকা নিয়ে বিলে নেমে শাপলা সংগ্রহ করছেন। পরে স্থানীয় বাজারে আঁটি বেঁধে বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন।
সিংড়ার সোহাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সাদেক আলী (৪৫) জানান, বর্ষার সময়ে তাদের কোনো কাজ থাকে না। এবার আগেভাগেই শাপলা ফুটে ওঠায় প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে সিংড়া বাজারে বিক্রি করছেন। এতে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হচ্ছে, যা দিয়ে দুর্যোগের এই সময়ে পরিবার চালানো সম্ভব হচ্ছে।
শাপলা শুধু জীবিকার উৎস নয়, এটি স্থানীয় তরুণদের কাছেও আনন্দের একটি অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। সিংড়া গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আলী হাসান জানান, এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কলেজ বন্ধ থাকায় অবসর সময়ে বন্ধুদের নিয়ে ডিঙি নৌকায় করে শাপলা তুলতে এসেছেন। পরে তেঁতুলের টক দিয়ে শাপলা মেখে খাওয়ার আনন্দও উপভোগ করেছেন তারা।
এদিকে বিলজুড়ে ফুটে থাকা লাল-সাদা শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি শাপলা সংগ্রহে ব্যস্ত মানুষের কর্মচাঞ্চল্যে চলনবিল এখন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর সংগ্রামী মানুষের জীবনযুদ্ধ—দুইয়ের অনন্য মেলবন্ধনে বর্ষার চলনবিল এখন যেন এক জীবন্ত জলরঙের ক্যানভাস। শরতের আগেই শাপলার এই সমারোহ শুধু চোখ জুড়াচ্ছে না, বরং শত শত পরিবারের জীবিকাও নিশ্চিত করে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

শেয়ার করুনঃ