শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
বেলকুচিতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজার চারা বিতরণ
পঞ্চগড় সদরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-১,গুরুতর আহত ২
সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি,নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ইন্নার
সিরাজগঞ্জে হোসেনপুর রানার্স ক্লাবের আয়োজনে জমজমাট আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
মৃত্যুর ৫১ বছর পরও অবিস্মরণীয় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন
হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: গ্রীন ও ক্লিন ঢাকার বার্তা দিল রাজউক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দল
কাজিপুরে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের

উল্লাপাড়ায় শতবর্ষী মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা,সংঘর্ষের আশঙ্কা

Download Photocard

মোঃ  হোসেন আলী( ছোট্ট)
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নের বেতকান্দী ফকিরপাড়া গ্রামে শতবর্ষী একটি ওয়াকফ মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উক্ত গ্রামের জনৈক সেরাজুল ইসলাম আকন্দ ১৯৮৭ সালে তার পৈতৃক ৩ শতক জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করেন। তবে, ওয়াকফের আগেই সেই স্থানে মসজিদটি বিদ্যমান ছিল। সম্প্রতি, মসজিদ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে গ্রামবাসীরা আরেকটি মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, যা এখনও অসম্পূর্ণ। এরপর গ্রামের প্রভাবশালী একটি অংশ সিদ্ধান্ত নেয় যে পুরাতন ওয়াকফকৃত মসজিদটি সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই এবং নতুন মসজিদেই সবাই নামাজ পড়বে। সেই অনুযায়ী, পুরাতন মসজিদটির বৈদ্যুতিক পাখা, বাল্বসহ স্থানান্তরযোগ্য উপকরণ খুলে নতুন মসজিদে স্থাপন করা হয়। তবে, মসজিদের ছাদ ভেঙে রড বের করতে গেলে ওয়াকফকারীর পুত্র মুকুল ইসলাম আকন্দ বাধা প্রদান করেন।
মুকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “যেহেতু আমার মরহুম বাবা এই শতবর্ষী মসজিদটি ওয়াকফ করেছেন, তাই এটি আমরা ভেঙে দিতে পারি না। নতুন মসজিদ তৈরি করা যেতে পারে, কিন্তু পুরাতন মসজিদ কেন ভাঙা হবে?”
মসজিদটি রক্ষায় মুকুল ইসলাম আকন্দ প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে পুলিশের হস্তক্ষেপে ভাঙার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে, এরপরই উত্তেজিত গ্রামবাসীরা মুকুল ইসলাম আকন্দের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোক্তার হোসেন জানান, “পুরাতন মসজিদে যাওয়ার রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে নতুন মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী, পুরাতন মসজিদের ইট, রড ও অন্যান্য উপকরণ নতুন মসজিদে ব্যবহারের জন্য আমরা মসজিদটি ভাঙার উদ্যোগ নেই। কিন্তু ওয়াকফকারীর পুত্র বাধা দিলে পুলিশি হস্তক্ষেপের ফলে আমরা কাজ স্থগিত রাখি।”
এদিকে, মসজিদের জমি দানকারী সেরাজুল ইসলাম আকন্দের স্ত্রী জানান, “আমাদের অজ্ঞাতসারে বেলাল ফকিরের নেতৃত্বে প্রায় ১০০-১৫০ জন গ্রামবাসী মসজিদ ভাঙতে আসে। আমরা বাধা দিলে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয় এবং দা দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করা হয়।”
ওয়াকফকারীর ছোট পুত্র সবুজ হোসেন আকন্দ বলেন, “আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের এই মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করায় গ্রামের প্রভাবশালী মহল আমাদের যেখানে পাবে, সেখানে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। ফলে আমরা বাড়িতেও ফিরতে পারছি না। বিষয়টি উল্লাপাড়া থানার অফিসার-ইন-চার্জ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত আছেন। তারা বৈঠকের মাধ্যমে গ্রামবাসীকে মসজিদটি না ভাঙার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।”

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০