মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট :
গতকাল প্রকাশিত হল ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রার্থীদের জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন ফলাফল। এই বিশাল কর্মএর পিছনের মানুষজন থেকে যায় পর্দার আড়ালে। গত বছর যখন সবাই
কোভিড ১৯ বিধি নিষেধ মানতে ঘরে ছিল তখন একদল মানুষ প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রার্থীদের জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন এর পদ্ধতি কি হবে তার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের জন্য ছিলেন ব্যস্ত।
কোভিড ১৯ বিধি নিষেধ এর জন্য সারা বাংলাদেশে একযোগে লিখিত মূল্যায়ন গ্রহন করা খুবি কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু মূল্যায়ন গ্রহন করা ছিল খুবি জরুরি , তাই প্রস্তুতি নেয়া হয় বাংলাদেশ স্কাউটস এর ইতিহাসে প্রথম বারের মত অনলাইনে মূল্যায়ন এর বেবস্থা করা। এই কাজটি যেহেতু ছিল প্রথমবারের মত ( বাংলাদশেও প্রথমবারের মত সমগ্র দেশে অনলাইন পরীক্ষা ) তাই অনেক বাধা ছিল যেমন, সকলের নিবন্ধন নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করা, একাধিক নিবন্ধন বাতিল করা, নিবন্ধিতদের তথ্য বাছাই করা এমন অনেক । সবচাইতে চ্যালেঞ্জ ছিল কল সেন্টারে কর্মরত বেক্তিগন অনেক অবান্তর প্রশ্নবানে জর্জরিত ছিল , এছারাও গভীর রাতেও ফোন করে অপ্রাসঙ্গিক সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া, কিন্তু কৃতজ্ঞতা তাঁদের প্রতি খুবি সুন্দর ভাবে সকলকে সহযোগিতা দিয়েছেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে আসলো মাহিন্দ্রক্ষণ প্রস্তুতিমূলক অনলাইন পরিক্ষার দিন, খুবি চিন্তিত ছিল সবাই কি হবে? কতটুকু সফল হবে? সবাই পারবেতো ? আর কত জল্পনা কল্পনা । কিন্তু সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমতে সফল ভাবে সম্পন্ন হয় প্রস্তুতিমূলক অনলাইন পরিক্ষা। এখন অপেক্ষা মূল পরিক্ষার দিনের। অবশেষে এলো মূল পরিক্ষার দিন, সকলে প্রায় ২টি নির্ঘুম রাত অতিক্রান্ত করে খুবি ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত তারপরও নেয়া হল সকল ধরনের প্রস্তুতি , কন্ট্রোল রুমে সকলে প্রুস্তুত, শুরু হল পরীক্ষা। কিন্তু বিধিবাম প্রথম ১০ মিনিটের পর একযোগে ৮টি টেলিফোন বাজতে শুরু করল, সকলের অভিযোগ ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছে। কারিগরি সহয়তা প্রদান করা বেক্তিগন সাথে চেষ্টা করেন পরিস্থিতি সামলাতে কিন্তু হায় ভাগ্য সহায় হলনা সেবেলায়। জাতীয় দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থগিত করা হল ঐদিনের পরীক্ষা, এই কর্মের সাথে জড়িত সকলে ভেঙ্গে পরেন, ভাবতে থাকেন কিভাবে সবাইকে উত্তর দিবেন, কিন্তু পিছনের কারিগরগন সকলকে সাহস জোগান এবং পুনরায় প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। পুনরায় শুরু হল প্রস্তুতি আগের চাইতে অনেক বেশি সাবধানতা ও সতর্কতার সহিত । এবার কোন বাধাকেই টিকতে দেয়া হবে না, আমরা সফল হব এই ছিল মুল্ব্রত। আবার এলো মূল্যায়ন গ্রহনের দিন, পুনরায় কন্ট্রোল রুমে সকলে দুরু দুরু মনে প্রস্তুত যুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে। শুরু হল পরীক্ষা গ্রহন কার্যক্রম, সকলেই অপেক্ষা করছিলাম এই বুঝি টেলিফোন বেজে উঠবে ।
কিন্তু মাত্র ৪ টি ফোন আসে কন্ট্রোল রুমে, তাও আবার তাঁদের পরীক্ষা সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে তা জানাতে। সকলেই হাফ ছেরে বাঁচে এবং ২য় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বিকেলের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ ও হয়ে গেল কোন ধরনের কারিগরি ত্রুটি বিহীন। অবশেষে বিজয়।
তারপর শুরু হল ভাইভা গ্রহনের প্রস্তুতি যেহেতু গত বছর ও জুম এর মাধ্যমে ভাইভা গ্রহন করা হয়েছিল তাই এটা তেমন কোন সমস্যা তৈরি করতে পারেনি। ভাইভা গ্রহনের জন্য ৪০ জন ভলেন্টিয়ার এবং ৮০ জন পরীক্ষক প্রস্তুত, সাথে জাতিয় সদর দফতরে তৈরি করা হয় কন্ট্রোল রুম। সম্পন্ন হয় ভাইভা গ্রহন সফল ভাবে যা ছিল অনেক কঠিন আমাদের
সকলের কাছে। সবশেষে গতকাল প্রকাশিত হল সেই মূল্যায়নের ফলাফল।জানতে চানা কারা ছিলেন সেই পর্দার আড়ালের মানুষ ? জনাব মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন,জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম),
জনাব মোহাম্মদ আমির শাদ বিন শামস, জাতীয় উপ কমিশনার (প্রোগ্রাম)জনাব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় উপ কমিশনার (প্রোগ্রাম),জনাব মোঃ মশিউর রহমান, জাতীয় উপ কমিশনার (প্রোগ্রাম),এ কে এম আশিকুজ্জামান, সহকারী পরিচালক (প্রোগ্রাম),মীর মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (প্রোগ্রাম),কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি।






